ভাঙাচোরা বেড়ার ঘরে চল্লিশোর্ধ্ব ছবিতা বালা ও তার একমাত্র মেয়ের সংসার। পলিথিনের বেড়া আর উপরে ফুটো টিনের ছাউনি। সাপ, ব্যাঙ ও কেঁচোর সঙ্গে তাদের নিত্য যুদ্ধ। গ্রামের অনেকেই সরকারিভাবে বাড়ি পেয়েছেন, কিন্তু ছবিতা বালার ভাগ্যে জোটেনি কোনো সরকারি ঘর। সামান্য বৃষ্টি বা দমকা বাতাসে ঘরের ছাউনির সঙ্গে তাদের প্রাণও ঝুঁকির মুখে পড়ে।
মা-মেয়ের এই মানবেতর জীবন চলছে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার ডাউয়াবাড়ী ইউনিয়নের পূর্ব বিছনদই গ্রামে। চোখে কোন রঙিন স্বপ্ন নেই তাদের, চাই শুধু সামান্য নির্ভরতা ও মাথা গোজার ঠাঁই। দু’বেলা দু’মুঠো খাবারের সন্ধানে তারা ঘরের মেরামতির কথা ভুলে যান।
বিয়ের পর স্বামী তাদের ছেড়ে চলে যান। ছবিতার ঘরে জন্ম নেয় দুই মেয়ে। বড় মেয়ে বিয়ে হওয়ার পর মারা যায়, আর ছোট মেয়ে বর্তমানে ডাউয়াবাড়ী ইউনিয়নের আজিজুর রহমান নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণীতে পড়াশোনা করছে।
প্রতিবেশি কুন্তী বালা জানান, ছবিতা ও তার মেয়ে ভীষণ কষ্টের মধ্যে দিন পার করছেন। তাদের থাকার মতো ঘরও নেই। রোদ-বৃষ্টিতে ওই ভাঙা ঘরে থাকতে হয়।
ছবিতা বালা বলেন, চেয়ারম্যান আমাদের ১০ টাকা কেজি দরে চাল দিয়েছেন। তা দিয়ে এবং অস্থায়ী কাজ করে সংসার চালাচ্ছি। কিন্তু ঝড়ে মাথা গোজার একমাত্র জায়গা লন্ডভন্ড হয়ে গেছে।
ডাউয়াবাড়ী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এ্যাড. মশিউর রহমান জানান, পূর্ববিছনদই গ্রামের ওই পরিবারকে আমি চিনি। ছবিতা বালাকে ১০ টাকা কেজি দরে চালের কার্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ঘরের ব্যাপারে আমি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে লিখিতভাবে দরখাস্ত দিয়েছি।
হাতীবান্ধা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফরিন হক বলেন, এ মুহূর্তে সরকারি ঘরের কোন বরাদ্দ নেই। তবে আমরা চেষ্টা করছি, পরবর্তীতে ঘর করে দেওয়া হবে।