সাইপ্রাসে যুক্তরাজ্যের ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা ইরানের, অপ্রয়োজনীয় কর্মীদের সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত

সাইপ্রাসে অবস্থিত যুক্তরাজ্যের সামরিক ঘাঁটি আরএএফ অ্যাকরোটিরিতে ড্রোন হামলার পর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে অপ্রয়োজনীয় কর্মীদের সাময়িকভাবে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাজ্যে। সাইপ্রাসের কর্তৃপক্ষ ও ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হামলায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি এবং ক্ষয়ক্ষতি ছিল সীমিত।

ঘাঁটির প্রশাসন অ্যাকরোটিরি এলাকার বাসিন্দাদের জন্য জারি করা এক নিরাপত্তা সতর্কবার্তায় পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ঘরে অবস্থান করতে বলা হয়। ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র জানান, স্থানীয় সময় মধ্যরাতে সন্দেহভাজন ড্রোন হামলার পর সেখানে অবস্থানরত বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্কতায় থেকে ঘাঁটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে।

ঘাঁটি প্রশাসন এক বিবৃতিতে জানায়, রাতের ঘটনার পর সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে শুধু আরএএফ অ্যাকরোটিরি স্টেশন থেকে অপ্রয়োজনীয় কর্মীদের সাময়িকভাবে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। তবে দ্বীপের অন্যান্য স্থাপনা স্বাভাবিকভাবেই কার্যক্রম চালিয়ে যাবে। স্থানীয় ব্রিটিশ কমিউনিটির মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিলেও পুরো অ্যাকরোটিরি গ্রাম ছাড়ার প্রয়োজন নেই বলেও তারা উল্লেখ করেছে।

সোমবার সকালে সাইপ্রাসের প্রেসিডেন্ট নিকোস ক্রিস্টোডৌলিদেস জানান, একটি মানববিহীন শাহেদ ড্রোন ঘাঁটিতে আঘাত হানে এবং এতে সামান্য অবকাঠামোগত ক্ষতি হয়। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, সাইপ্রাস কোনো সামরিক অভিযানে অংশ নিচ্ছে না এবং ভবিষ্যতেও এমন পরিকল্পনা নেই।

ঘটনাটি ঘটে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিতে হামলার জন্য ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই। যদিও যুক্তরাজ্য সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের ইরানবিরোধী হামলায় অংশ নেয়নি, তবু প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এক বিবৃতিতে বলেন, ইরানের ক্রমবর্ধমান ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ ব্রিটিশ নাগরিকদের নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলছে। এ কারণে সীমিত ও প্রতিরক্ষামূলক উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রকে দুটি ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

সাইপ্রাসে অবস্থিত দুটি ব্রিটিশ ঘাঁটির ওপর যুক্তরাজ্যের সার্বভৌমত্ব রয়েছে। পূর্ব ভূমধ্যসাগরের দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থিত বিস্তীর্ণ এই আরএএফ অ্যাকরোটিরি মধ্যপ্রাচ্যে অভিযান পরিচালনার ফরোয়ার্ড অপারেটিং বেস এবং যুদ্ধবিমান প্রশিক্ষণের জন্য ব্যবহৃত হয়। সর্বশেষ ১৯৮০–এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে লিবিয়ায় হামলার শিকার হয়েছিল এই ঘাঁটি।

মধ্যপ্রাচ্যে টানা তৃতীয় দিনের মতো সংঘাত চলতে থাকায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা অব্যাহত রেখেছে। এর আগে এক বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর উত্তেজনা আরও বেড়েছে। স্টারমার জানিয়েছেন, উপসাগরীয় অঞ্চলে প্রায় দুই লাখ ব্রিটিশ নাগরিক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে, কারণ ইরান প্রতিবেশী দেশগুলোর দিকে নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করছে।

তিনি আরও বলেন, ব্রিটিশ বাহিনী সরাসরি হামলায় অংশ নেবে না; ঘাঁটিগুলো কেবল ক্ষেপণাস্ত্র সংরক্ষণাগার ও উৎক্ষেপণস্থল লক্ষ্য করে সীমিত প্রতিরক্ষামূলক কাজে ব্যবহৃত হবে। কোন ঘাঁটি ব্যবহৃত হবে তা স্পষ্ট না হলেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারত মহাসাগরের দিয়েগো গার্সিয়া ঘাঁটির কথা আগে উল্লেখ করেছিলেন।