বেডরুমে ঢুকে স্ত্রী-সন্তানকে গুলি করার হুমকি, ২ যুবদল নেতা বহিষ্কার

রংপুরে কারাগারে থাকা এক যুবলীগ নেতার ম্যানেজারের বাড়িতে ঢুকে বউ-বাচ্চাসহ গুলি করার হুমকির অভিযোগ উঠেছে রংপুর জেলা যুবদলের দুই নেতার বিরুদ্ধে। ওই দুই নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

রোববার (১ মার্চ) রাতেই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল তাদের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পদ থেকে বহিষ্কার করে। কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহদপ্তর সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূইয়া স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও নীতি-আদর্শ পরিপন্থি কর্মকাণ্ডের কারণে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। 

বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, বহিষ্কৃত নেতাদের কোনো ধরনের অপকর্মের দায়-দায়িত্ব দল নেবে না। পাশাপাশি যুবদলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীদের তাদের সঙ্গে সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

বহিষ্কৃতরা হলেন—জেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আকিবুল রহমান মনু ও সহসাধারণ সম্পাদক তামজিদুর রশিদ গালিব। 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সানজিদা ইসলাম নামে এক নারী তার স্বামীর ডিস লাইন ও ইন্টারনেট ব্যবসা স্থানীয় যুবদল নেতারা জোরপূর্বক নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ তুলে শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সাংবাদিক সম্মেলন করেন। ভুক্তভোগী সানজিদার দাবি, নগরীর শাহীপাড়া, কামাল কাছনা ও দখিগঞ্জ শ্মশান পর্যন্ত ডিস লাইন ক্যাবল ওয়ান নেটওয়ার্ক থেকে কিনে আখলাকুর রহমান খান পপি ব্যবসা করেন। পরবর্তীতে আখলাকুর রহমান খান পপি ডিস লাইন বিক্রি করলে তার স্বামী নিজাম উদ্দিন সুমন ও ভাসুর হারুন অর রশিদ হারুন বিগত ২০১৫ সালে কিনে চুক্তিপত্র করে। তখন থেকে তারা এই ডিস লাইন পরিচালনা করে আসছেন। বর্তমানে তাদের ডিস লাইনের পাশাপাশি ইন্টারনেট সংযোগ ব্যবসাও রয়েছে। 

সানজিদা ইসলাম করেন, বিএনপি সরকার গঠনের পর হঠাৎ করে গালিব ও মানুসহ কয়েকজন যুবদল নেতা তাদের ডিস লাইন ও ইন্টারনেট সংযোগ ব্যবসা জোরপূর্বক কেড়ে নিতে চান। তারা বিভিন্নভাবে তাকেসহ তার স্বামী এবং ভাসুরকে মারধর ও হত্যার ভয়ভীতি দেখানোর পাশাপাশি ব্যবসায়িক ক্ষতি করার হুমকি দেন।

তাদের এই হুমকির ধামকির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়।

ভিডিওতে দেখা যায়, মনু মায়া সাইবার ওয়ার্ল্ডের জিএম কাফিকে হুমকি দেন, ‘আজকে বিকেলের মধ্যে যদি সমাধান না করিস, তাহলে বেডরুমে গিয়ে বউ-বাচ্চাসহ তোকে গুলি করে আসব।’

এসব অভিযোগ প্রসঙ্গে যুবদল নেতা তামজিদুর রশিদ গালিব বলেন, ‘২০১৫ সালে আমাকে জেলে পাঠিয়ে আমার ব্যবসা দখল করা হয়েছে।’

ব্যবসার কোনো নথি আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ ব্যবসার কোনো ডকুমেন্টস হয় না। আমি আমার হক আদায় করে নিচ্ছি।’

রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শাহজাহান আলী জানিয়েছেন, এখনও লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।