মশা নিয়ন্ত্রণে দিনে তিনবার ওষুধ প্রয়োগ করবে ডিএনসিসি, থাকবে কুইক রেসপন্স টিম

রাজধানীতে ক্রমবর্ধমান মশার উপদ্রব নিয়ন্ত্রণে প্রতিদিন তিনবার মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি)। একইসঙ্গে কার্যক্রমকে আরও জোরদার করতে বিশেষ কুইক রেসপন্স টিম (কিউআরটি) গঠন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩ মার্চ) ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মুখপাত্র মো. জোবায়ের হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। 

জোবায়ের বলেন, ডিএনসিসির প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই মশক নিধন কার্যক্রমকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। তার নির্দেশনায় নগরজুড়ে মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম নতুনভাবে সাজানো হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় আজ থেকে মশক নিধন ওষুধ প্রয়োগের নতুন সময়সূচি কার্যকর হচ্ছে।

আজ ডিএনসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নতুন সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়।

এতে বলা হয়, সকালে লার্ভা ধ্বংসে লার্ভিসাইডিং কার্যক্রম পরিচালিত হবে। বিকেল ও সন্ধ্যার পাশাপাশি মশার উড়াল ও সক্রিয়তার সময় বিবেচনায় অঞ্চলভেদে রাতে ফগিং কার্যক্রম চালানো হবে। ফলে এলাকাভেদে দিনে তিনবার মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালিত হবে। সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের মাঠপর্যায়ে টিমগুলোর কার্যক্রম সরেজমিনে তদারকির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কিউআরটি টিম ইতোমধ্যে বিভিন্ন হটস্পটে বিশেষ অভিযান শুরু করেছে। কিউলেক্স মশার প্রজননস্থল হিসেবে চিহ্নিত নালা, নর্দমা, স্যুয়ারেজ লাইন, জলাশয় ও খাল-বিলের হালনাগাদ তালিকা প্রস্তুত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

উল্লেখ্য, ডেঙ্গু ও অন্যান্য মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে ডিএনসিসি কর্তৃপক্ষ। নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী সব মশক নিধন কর্মীদের উপস্থিতি ও কার্যক্রম নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া ও মাঠ পর্যায়ে তদারকির ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

একইসঙ্গে নাগরিকদের নিজ নিজ বাসাবাড়ি, ছাদ, বারান্দা, সামনে-পেছনে ও আশপাশে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, যথাযথ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা মেনে চলা এবং কোথাও যাতে পানি জমে না থাকে তা নিশ্চিত করার মাধ্যমে মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে সক্রিয় সহযোগিতা করার জন্য ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।