উগ্রবাদ নিয়ে বক্তব্য নির্বাচনের সঙ্গে জুড়ে বিভ্রান্তি: রিজওয়ানা হাসান

নারীর প্রতি উগ্রবাদ নিয়ে দেওয়া নিজের বক্তব্য খণ্ডিতভাবে প্রচার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তিনি বলেন, তার বক্তব্যের সঙ্গে নির্বাচন ও বিরোধী দলকে জড়িয়ে যেভাবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে, তা ‘দুর্ভাগ্যজনক’ ও ‘অনাকাঙ্ক্ষিত’।

বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সন্ধ্যায় দেশের প্রথম সারির একটি পত্রিকায় দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় তিনি এ কথা বলেন।

রিজওয়ানা হাসান জানান, একটি টেলিভিশন চ্যানেলের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে আলাপের সময় নারীর প্রতি উগ্রবাদ ও সাম্প্রতিক কিছু ঘটনার প্রসঙ্গ ওঠে। উপস্থাপক জানতে চান—মাজারে হামলা, বাউলদের ওপর নির্যাতন এবং নারীদের নিয়ে কটূক্তির ঘটনাগুলো তিনি কীভাবে দেখছেন। একই সঙ্গে অনেকেই এসব ঘটনায় উগ্রপন্থীদের সুযোগ দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন—এ কথাও প্রশ্নে উল্লেখ করা হয়।

তিনি বলেন, ওই প্রশ্নের জবাবে তিনি উল্লেখ করেন যে নারীদের নিয়ে কটূক্তি করা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নারী সমাজ প্রতিবাদ জানিয়েছে, লিগ্যাল নোটিশ দিয়েছে এবং সরকারও বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছে। ফলে সংশ্লিষ্টরা পরে ক্ষমা চাইতে বাধ্য হয়েছেন।

রিজওয়ানা হাসান বলেন, “আমি বলেছি—যারা কটূক্তি করেছে, সেই উগ্রবাদী শক্তি যেন মূলধারায় প্রবেশ করতে না পারে, সে বিষয়ে নারী সমাজকে কাজ করতে হবে। অর্থাৎ নারী সমাজই এসব শক্তিকে মেইনস্ট্রিম হতে দেয়নি।”

বক্তব্যের ব্যাখ্যায় তিনি আরও বলেন, আলোচনার একপর্যায়ে উপস্থাপক নির্বাচনের প্রসঙ্গ তুললে তিনি শুধু এতটুকু বলেন যে, বিরোধী দলের যেসব উদ্যোগ নারীর ক্ষমতায়নের সঙ্গে সম্পর্কিত, সেসব বিষয়ে তারা কাজ করবেন। এরপর আবার মূল প্রশ্নে ফিরে গিয়ে তিনি উগ্রবাদ প্রসঙ্গেই কথা বলেন।

সাবেক এই উপদেষ্টার দাবি, পুরো আলোচনায় তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের নাম উল্লেখ করেননি। কারণ সেটি প্রশ্নের সঙ্গে প্রাসঙ্গিক ছিল না। তিনি বলেন, বিরোধী দল অবশ্যই গণতন্ত্রের মূলধারার অংশ।

রিজওয়ানা হাসান বলেন, “আমি কোনো দলকে মূলধারায় আসতে দিইনি—এমন বক্তব্য দেওয়া সম্পূর্ণ অপব্যাখ্যা, অবান্তর এবং বিভ্রান্তিকর। আমার বক্তব্য ছিল উগ্রবাদী শক্তি নিয়ে, কোনো রাজনৈতিক দল নিয়ে নয়।”

এদিকে আজ দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে সাবেক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান ও খলিলুর রহমানের বিরুদ্ধে ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের’ অভিযোগ তোলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটি এই দুই সাবেক উপদেষ্টাকে আইনের আওতায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ ও বিচার দাবি করেছে।

জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত ওই সংবাদ সম্মেলনে দলের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, রিজওয়ানা হাসানের বক্তব্যে নির্বাচন প্রভাবিত করার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

তিনি দাবি করেন, নির্বাচনের মাধ্যমে একটি দলকে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে বাধা দিতে প্রশাসনিকভাবে ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ করা হয়েছিল কি না, তা তদন্ত করে জাতির সামনে স্পষ্ট করা প্রয়োজন।

জামায়াত নেতা আরও বলেন, সরকার যেন রিজওয়ানা হাসানকে জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় এনে বিষয়টি পরিষ্কার করে এবং দেশবাসীর সামনে প্রকৃত ঘটনা তুলে ধরে।