ইরানি যুদ্ধজাহাজ ডুবিয়ে দেওয়া মার্কিন সাবমেরিনে ছিলেন ৩ অস্ট্রেলীয়

ভারত মহাসাগরে ইরানের একটি সামরিক জাহাজ লক্ষ্য করে টর্পেডো হামলা চালানো সেই মার্কিন পারমাণবিক সাবমেরিনে অস্ট্রেলিয়ার তিনজন নাগরিক অবস্থান করছিলেন বলে নিশ্চিত করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী অ্যান্টনি আলবানিজ। 

শুক্রবার (৬ মার্চ) স্কাই নিউজকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেন। 

আলবানিজ জানান, সাধারণত এ ধরনের গোপন সামরিক তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয় না, তবে জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির (এনএসসি) বিশেষ বৈঠক এবং জনস্বার্থের বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তিনি এই সত্যতা নিশ্চিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে এটিও স্পষ্ট করেছেন যে, অস্ট্রেলিয়ার ওই সদস্যরা ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি কোনো আক্রমণাত্মক সামরিক অভিযানে অংশ নেননি।

প্রধানমন্ত্রী আলবানিজ আরও ব্যাখ্যা করেছেন যে, তিন দেশীয় শক্তিশালী সামরিক জোট ‘অকাস’-এর কৌশলগত অংশ হিসেবে মিত্র বাহিনীর সাবমেরিনে প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতা ও প্রশিক্ষণ অর্জনের লক্ষ্যেই অস্ট্রেলিয়ার ওই তিন সদস্য সেখানে অবস্থান করছিলেন। মূলত দীর্ঘমেয়াদী সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির অংশ হিসেবেই তাঁরা মার্কিন সাবমেরিনটিতে দায়িত্ব পালন করছিলেন। 

গত বুধবার শ্রীলঙ্কার উপকূলের কাছে ভারত মহাসাগরে ইরানি যুদ্ধজাহাজ ‘আইআরআইএস ডেনা’ (IRIS Dena) লক্ষ্য করে টর্পেডো হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্রের একটি সাবমেরিন। এই বিধ্বংসী হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৮৭ জন ইরানি নাবিকের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে এবং ৩২ জনকে সমুদ্র থেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তবে বেশ কয়েকজন নাবিক এখনো নিখোঁজ থাকায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এই হামলার ঘটনাটি আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে, বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়ার সরাসরি জড়িত থাকার বিষয়টি প্রকাশ পাওয়ায় তেহরানের সঙ্গে ক্যানবেরার কূটনৈতিক সম্পর্কের টানাপোড়েন তৈরি হতে পারে। আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর কোনো শত্রুপক্ষের জাহাজে এটিই প্রথম এ ধরনের সাবমেরিন হামলা বলে বর্ণনা করেছেন খোদ মার্কিন কর্মকর্তারা। 

ইরান ইতিমধ্যে এই হামলাকে একটি ‘বিনা উসকানিতে চালানো আগ্রাসন’ হিসেবে অভিহিত করে চরম প্রতিশোধ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। এমন উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রীর এই স্বীকারোক্তি প্রশান্ত মহাসাগরীয় ও ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে অকাস জোটের ভবিষ্যৎ সামরিক তৎপরতা নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

ভারত মহাসাগরের এই কৌশলগত জলসীমায় মার্কিন ও ইরানি বাহিনীর সরাসরি সংঘাতের প্রভাব বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার এবং নৌ চলাচলের নিরাপত্তার ওপরও পড়ছে। শ্রীলঙ্কান নৌবাহিনী নিখোঁজ ইরানি নাবিকদের সন্ধানে উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে, তবে সমুদ্রের উত্তাল পরিস্থিতি এই কাজে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে। 

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকদের উপস্থিতি কেবল একটি প্রশিক্ষণমূলক বিষয় হলেও এটি প্রমাণ করে যে আঞ্চলিক সংঘাতে মিত্র দেশগুলো কতটা ঘনিষ্ঠভাবে একে অপরের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে। বর্তমানে পুরো এলাকায় সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং যেকোনো সময় আরও বড় ধরনের পাল্টা হামলার আশঙ্কা করছেন সামরিক বিশেষজ্ঞরা।

সূত্র: আল-জাজিরা