যুক্তরাজ্যে ইরানের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে গ্রেপ্তার ৪

ইরানের গোয়েন্দা সংস্থাকে সহায়তার সন্দেহে যুক্তরাজ্যে চার ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির কাউন্টার টেররিজম পুলিশ। শুক্রবার (৬ মার্চ) রাত ১টার কিছু পরে লন্ডনের বারনেট এবং ওয়াটফোর্ড এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়। 

মেট্রোপলিটন পুলিশ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে একজন ইরানি নাগরিক এবং বাকি তিনজন ব্রিটিশ-ইরানি দ্বৈত নাগরিক। লন্ডনে বসবাসরত ইহুদি সম্প্রদায়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান এবং ব্যক্তিদের ওপর নজরদারি চালানোর অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে এই আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ব্রিটিশ পুলিশ এই ঘটনাকে একটি বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থাকে সহায়তা করার গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করছে।

মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে দেওয়া ওই বিবৃতিতে আরও জানানো হয় যে, এই চারজন ছাড়াও হ্যারো এলাকা থেকে আরও ছয় ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে একজন অপরাধীকে সহায়তা করার অভিযোগ আনা হয়েছে। কাউন্টার টেররিজম পুলিশের প্রধান কমান্ডার হেলেন ফ্ল্যানাগান জানিয়েছেন যে, আজকের এই গ্রেপ্তার অভিযানটি মূলত দীর্ঘদিনের একটি তদন্তের অংশ। 

বিদেশি শক্তির ক্ষতিকর ও সন্দেহজনক কার্যক্রম নস্যাৎ করার জন্য তাদের যে চলমান প্রক্রিয়া রয়েছে, এটি তারই প্রতিফলন। তদন্তকারী কর্মকর্তারা মনে করছেন, এই চক্রটি ইরানের গোয়েন্দা সংস্থার হয়ে তথ্য সংগ্রহের কাজ করছিল, যা ব্রিটেনের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য হুমকি হতে পারে।

এই ঘটনার প্রেক্ষাপটে লন্ডনের ইহুদি সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে ধারণা করছে প্রশাসন। কমান্ডার ফ্ল্যানাগান জনসাধারণের উদ্দেশ্যে বলেছেন যে, জনমনে উদ্বেগ থাকাটা স্বাভাবিক, বিশেষ করে ইহুদি সম্প্রদায়ের মধ্যে। তবে তিনি সবাইকে সতর্ক ও সজাগ থাকার অনুরোধ জানিয়েছেন। 

পুলিশের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, কোনো ধরনের সন্দেহজনক তৎপরতা বা অস্বাভাবিক কিছু নজরে এলে যেন অবিলম্বে তাদের জানানো হয়। বর্তমানে গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং এই চক্রের সঙ্গে আর কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান বৈশ্বিক উত্তেজনার মধ্যেই লন্ডনে এই গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ ও গ্রেপ্তারের ঘটনাটি ঘটল। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাব এখন ইউরোপের দেশগুলোতেও দৃশ্যমান হচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। 

ব্রিটিশ গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এখন ইহুদি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও বসতিগুলোর নিরাপত্তা জোরদার করেছে। বিদেশের মাটিতে অন্য দেশের হয়ে গোয়েন্দাগিরি করার এই প্রবণতা রুখতে ব্রিটেন কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান