গাজীপুরের শ্রীপুরে একটি বেসরকারি হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের পর এক প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। স্বজনদের অভিযোগ, ভুল চিকিৎসা ও দায়িত্বে অবহেলার কারণেই এই মৃত্যু হয়েছে।
সোমবার (৯ মার্চ) ভোরে উপজেলার মাওনা চৌরাস্তা এলাকার ‘লাইফ কেয়ার হাসপাতাল’-এ এ ঘটনা ঘটে। নিহত প্রসূতির নাম রুমা (২৫)। রুমা শ্রীপুর পৌরসভার উজিলাব গ্রামের বাসিন্দা মো. মানিক মিয়ার স্ত্রী। তিনি গোসিঙ্গা ইউনিয়নের হেরা পটকা গ্রামের আ. রশিদ ও সালেহা বেগমের মেয়ে।
স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৮ মার্চ সকালে প্রসব বেদনা নিয়ে রুমাকে মাওনা চৌরাস্তার লাইফ কেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। একই দিন দুপুর ১২টার দিকে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে তিনি একটি ছেলে সন্তানের জন্ম দেন।
অস্ত্রোপচারের পর তিনি জীবিত ছিলেন বলে জানান পরিবারের সদস্যরা। তবে পরদিন সোমবার ভোর ৫টার দিকে স্বজনরা তাকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান।
স্বজনদের অভিযোগ, রুমার মৃত্যুর বিষয়টি গোপন রেখে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ উন্নত চিকিৎসার কথা বলে তাকে ঢাকায় নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। পরে ঢাকায় নেওয়ার পথে স্বজনরা বুঝতে পারেন, অপচিকিৎসার কারণেই তার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে।
ঘটনার পরপরই হাসপাতালের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসকসহ সংশ্লিষ্ট কাউকে আর পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীর পরিবার। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ স্বজনরা হাসপাতালের বিরুদ্ধে ভুল চিকিৎসা ও দায়িত্বহীনতার অভিযোগ তুলে ভবনে ভাঙচুর চালান। পরে খবর পেয়ে শ্রীপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
ঘটনার পর শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. শফিকুল ইসলাম এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাইদুল ইসলাম হাসপাতালটি পরিদর্শন করেন।
ডা. শফিকুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে সিজারিয়ান অপারেশনের পর রোগীকে পর্যবেক্ষণে রাখা হলেও হাসপাতালে তখন কোনো অভিজ্ঞ চিকিৎসক উপস্থিত ছিলেন না। যথাযথ চিকিৎসকের অনুপস্থিতি ও দায়িত্বে অবহেলার কারণেই এই মৃত্যুর ঘটনা ঘটতে পারে।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাইদুল ইসলাম জানান, হাসপাতালটিতে নানা ধরনের অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা পাওয়া গেছে। এর আগেও এমন ঘটনার অভিযোগ রয়েছে। তাই তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালটি সিলগালা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিহত রুমার স্বামী মো. মানিক মিয়া কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পরিকল্পিতভাবে আমার স্ত্রীকে মেরে ফেলেছে। এখন তারা সবাই পালিয়ে গেছে। আমি আমার স্ত্রীর মৃত্যুর সঠিক বিচার চাই।”
ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তদের খুঁজে বের করতে প্রশাসন কাজ করছে। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।