রাজধানীর আজিমপুর ও মগবাজারে পৃথক ঘটনায় গৃহবধূসহ ২ জনের লাশ উদ্ধার

রাজধানীর আজিমপুর ও মগবাজার এলাকায় পৃথক ঘটনায় গৃহবধূসহ দুইজনের অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। মৃতরা হলেন এনায়েত উল্লাহ (৩৪) ও নিগার সুলতানা (৩৪)।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সকাল ১০টার দিকে মগবাজারের একটি বাসা থেকে নিগার সুলতানার লাশ উদ্ধার করা হয়। এর আগে সোমবার রাত প্রায় ১১টার দিকে আজিমপুরের কাশ্মিরীটোলা এলাকার বাসা থেকে এনায়েত উল্লাহর লাশ উদ্ধার করা হয়।

এনায়েত উল্লাহর ফুপাতো ভাই আলমগীর হোসেন জানান, তাদের বাড়ি ফেনির সোনাগাজী উপজেলায়। এনায়েত ঢাকার আজিমপুরের কাশ্মিরীটোলা এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তাকর্মী ছিলেন এবং অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী লুবনাকে নিয়ে সেখানে থাকতেন। কিছুদিন আগে স্ত্রী গ্রামের বাড়িতে চলে যান।

সোমবার সন্ধ্যায় স্ত্রীর সঙ্গে পারিবারিক বিষয় নিয়ে ফোনে তাদের কথা কাটাকাটি হয়। এরপর এনায়েত ফোন কেটে দিলে স্ত্রী লুবনা পাশের বাসার এক ভাড়াটিয়াকে ফোন করে বিষয়টি দেখতে বলেন। ওই ব্যক্তি বাসায় গিয়ে দরজা বন্ধ দেখতে পান। পরে স্বজনদের খবর দিলে তারা এসে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। তখন এনায়েত উল্লাহকে ফ্যানের সঙ্গে মাফলার পেঁচিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। দ্রুত তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে রাত ১২টার দিকে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

অন্যদিকে মগবাজারে নিহত নিগার সুলতানার স্বামী রবিউল ইসলাম জানান, নিগারের বাড়ি নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার পাচুরিয়া গ্রামে। তাঁর বাবা সৈয়দ হেমায়েত আলী। তারা হাতিরঝিল থানার বড় মগবাজার ওয়্যারলেস গেট এলাকার বোতল হাউজিংয়ের একটি বাসার পঞ্চম তলায় ভাড়া থাকতেন।

রবিউল ইসলাম জানান, দীর্ঘদিন ধরে নিগার মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। মঙ্গলবার সকালে তিনি নিজ কক্ষের দরজা বন্ধ করে দেন। অনেকক্ষণ ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া না পেয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে দেখা যায়, নিগার ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় আছেন। পরে তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক বেলা ১২টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক জানান, দুইজনের লাশই ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।