তোফাজ্জল হত্যার বিচার বিলম্বিত করার চেষ্টা ঢাবি প্রশাসনের!

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ফজলুল হক মুসলিম হলে চোর সন্দেহে গণপিটুনিতে তোফাজ্জল নামে মানসিক ভারসাম্যহীন এক যুবককে হত্যার অভিযোগে করা মামলার বিচারকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন প্রলম্বিত করার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। গতকাল বুধবার সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে এক সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেছেন ভিকটিম তোফাজ্জলের পরিবারের আইনজীবী অ্যাডভোকেট জিয়াউর রহমানের।

তিনি বলেন, এই হত্যা মামলায় শাহবাগ থানা পুলিশ প্রথম তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে। সেখানে ২১ জনকে অভিযুক্ত করা হয়। এই তদন্ত রিপোর্টে নারাজি আবেদন দাখিল করে মামলার বাদী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ঐ নারাজির পরিপ্রেক্ষিতে মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য পিবিআইকে দেয় আদালত। পিবিআই অধিকতর তদন্ত করে ২৮ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে। মঙ্গলবার ঐ চার্জশিটের গ্রহণযোগ্যতার ওপর শুনানির জন্য দিন ধার্য ছিল। এবারও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ঐ রিপোর্টের ওপর আবারও নারাজি দেয়। কিন্তু আদালত নারাজি আবেদন খারিজ করে দিয়ে চার্জশিট আমলে নিয়ে পলাতক ২২ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে।

অ্যাডভোকেট জিয়াউর রহমান বলেন, হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদনের ওপর বারবার নারাজি দেওয়ার বিষয়টি প্রমাণ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তোফাজ্জল হত্যা মামলার বিচারকে প্রলম্বিত করতে চায়। কারণ বিশ্ববিদ্যালয় মামলার কিছু সংখ্যক আসামিকে বাঁচাতেই এই নারাজি আবেদন দিচ্ছে। এমনকি ২২ জন আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে আদালত। তাদের গ্রেফতারে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ পুলিশ নিচ্ছে না। মনে হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে রাষ্ট্রযন্ত্র মিলেই আসামিদের গ্রেফতার করছে না।

অ্যাডভোকেট জিয়াউর রহমান আরো বলেন, হত্যা মামলায় গ্রেফতার সাত জন আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তারা সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন কোন আসামি তোফাজ্জলকে কীভাবে এবং কোন প্রক্রিয়ায় পিটিয়ে হত্যা করেছে। এরপরেও বিচারকে বাধাগ্রস্ত করার নানা কৌশল নিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

প্রসঙ্গত, তোফাজ্জল হত্যা মামলায় ২৮ জনকে অভিযুক্ত করে পিবিআইয়ের অভিযোগপত্র গতকার মঙ্গলবার গ্রহণ করে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা। চার্জশিটভুক্ত আসামিদের মধ্যে ২২ জন পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে আদালত।

গত বছর ১৮ সেপ্টেম্বর রাতে ঢাবির ফজলুল হক মুসলিম হলে ঐ যুবককে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। পরদিন ঢাবির এস্টেট অফিসের সুপারভাইজার মোহাম্মদ আমানুল্লাহ বাদী হয়ে শাহবাগ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। তোফাজ্জলের বাড়ি বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার কাঁঠালতলী ইউনিয়নে।