ইসরায়েলি হামলার মধ্যেই নতুন নেতার ছবি হাতে রাস্তায় ইরানীরা

ফিলিস্তিনিদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে আয়োজিত বার্ষিক আন্তর্জাতিক কর্মসূচি আল কুদস দিবস উপলক্ষে শুক্রবার (১৩ মার্চ) সকালে ইরানের ছোট-বড় বিভিন্ন শহরে লাখ লাখ মানুষের বিশাল মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

তেহরান, মাশহাদ, এসফাহন এবং জাহেদানসহ দেশটির প্রধান শহরগুলোতে সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার পক্ষে সংহতি প্রকাশ করেন। এবারের মিছিলে বিক্ষোভকারীদের হাতে ইরানের নবনিযুক্ত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি এবং তার প্রয়াত পিতা আলী খামেনির প্রতিকৃতি দেখা গেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমগুলোতে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, উত্তাল জনতা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল বিরোধী নানা স্লোগান দিচ্ছেন।

রাজধানী তেহরানে বিক্ষোভের তীব্রতা ছিল সবচেয়ে বেশি। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কুশপুত্তলিকা দাহ করেন। cnn2

আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ফার্স নিউজের ভিডিওতে দেখা গেছে, বিক্ষোভকারীরা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পতাকায় মোড়ানো প্রতীকী কফিনে পেরেক ঠুকছেন, যা দেশ দুটির প্রতি তাদের চরম ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। এই গণবিক্ষোভ এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে যখন ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী তেহরানে বড় ধরনের বিমান হামলার ঘোষণা দিয়েছে। এর আগে তেহরান ও এসফাহনসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিকট বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গিয়েছিল।

এবারের আল কুদস দিবসটি ইরানের অভ্যন্তরীণ ও আঞ্চলিক পরিস্থিতির কারণে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। একদিকে যুদ্ধের দামামা এবং অন্যদিকে নতুন নেতৃত্বের প্রতি আনুগত্য প্রকাশের সুযোগ হিসেবে রাজপথের এই জমায়েতকে দেখছেন বিশ্লেষকরা। Thumbnail Toshif Hasan (2)

শিয়া মুসলিম নারীদেরও ব্যাপক সংখ্যায় এই কর্মসূচিতে অংশ নিতে দেখা গেছে। তারা সমস্বরে আমেরিকা ও ইসরায়েলের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন। যুদ্ধের ভয়াবহতা এবং আকাশপথে হামলার হুমকির তোয়াক্কা না করেই ইরানিদের এই বিশাল জমায়েত আন্তর্জাতিক মহলে বিশেষ আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর নজরদারির মধ্যে শান্তিপূর্ণভাবে এই পদযাত্রা শুরু হলেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল বিরোধী স্লোগানে পুরো এলাকা প্রকম্পিত হয়ে ওঠে। আল কুদস দিবসকে কেন্দ্র করে প্রতি বছরই ইরান এই ধরনের বড় সমাবেশের আয়োজন করে থাকে, তবে এবারের যুদ্ধের প্রেক্ষাপট এবং নতুন সর্বোচ্চ নেতার ছবির উপস্থিতি মিছিলগুলোতে ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে। ফিলিস্তিন ইস্যু ইরান সরকারের পররাষ্ট্রনীতির একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে এই কর্মসূচির মাধ্যমে পুনরায় বিশ্বের কাছে তুলে ধরা হলো।

সূত্র: সিএনএন