২ হাজার কেজির মৃত তিমি ৮ দিন ধরে পড়ে আছে সৈকতে

কক্সবাজারের দ্বীপ উপজেলা কুতুবদিয়ার দক্ষিণ ধুরুং ইউনিয়নের অলী পাড়া সৈকতে একটি বিশাল মৃত তিমি টানা ৮ দিন ধরে সৈকতে আটকা পড়েছে। সেই মৃতদেহে পচন ধরে বাতাসে তীব্র দুর্গন্ধ সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, যেকোনো মুহূর্তে বিশালাকার এই তিমির পেট ফেটে গিয়ে পুরো এলাকায় মারাত্মক পরিবেশ বিপর্যয় নেমে আসতে পারে।

স্থানীয়রা জানান, প্রায় এক সপ্তাহ আগে জোয়ারের তোড়ে আনুমানিক ২ টন ওজনের এই বিশাল মৃত তিমিটি সৈকতে ভেসে আসে। পরবর্তীতে ভাটার সময় এটি বালুচরে আটকে যায়। দীর্ঘ সময় ধরে খোলা আকাশের নিচে পড়ে থাকায় তিমির শরীরে পচন ধরেছে। পচা রক্ত ও পুঁজ গড়িয়ে সমুদ্রের পানিতে মিশছে, যা উপকূলীয় পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে।

সৈকতে ফিশিং বোট নির্মাণের কাজে নিয়োজিত শ্রমিক জয়নাল আবেদীন ও মোহাম্মদ খলিল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘গত ৮ দিন ধরে তিমিটি এখানে পড়ে পচছে। বাতাসে এত বিষাক্ত দুর্গন্ধ যে এখানে কাজ করা এখন আমাদের জন্য দুরূহ হয়ে পড়েছে।

বেড়িবাঁধ সংলগ্ন দোকানি রুহুল আমিন জানান, ছয় দিন আগে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান গাড়ি নিয়ে এসে বালি চাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু জোয়ারের প্রবল ঢেউয়ে সেই বালি ধুয়ে যাওয়ায় মৃতদেহটি আবারও অনাবৃত হয়ে পড়ে।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও কক্সবাজার জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক করিম উল্লাহ কলিম এই পরিস্থিতিকে উদ্বেগজনক হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি বলেন, মৃত তিমিটি দ্রুত অপসারণ বা বৈজ্ঞানিক উপায়ে পুঁতে না ফেললে আশপাশের এলাকায় পানিবাহিত ও বায়ুবাহিত নানা রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিতে পারে। পরিবেশ অধিদপ্তর ও বন বিভাগের উচিত ছিল দ্রুততম সময়ে এটি মাটির নিচে পুঁতে ফেলা।

প্রশাসনের বক্তব্য ও বর্তমান দক্ষিণ ধুরুং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলা উদ্দিন আল আজাদ জানান, তিনি খবর পাওয়ার পরপরই ব্যক্তিগত উদ্যোগে ক্রেন ও গাড়ি নিয়ে বালি চাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু তিমিটি আকারে বিশাল হওয়ায় এবং জোয়ারের পানির চাপে তা কার্যকর হয়নি।

তিনি আরও জানান, কুতুবদিয়া উপজেলার বর্তমান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বদলিজনিত কারণে না থাকায় এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) ছুটিতে থাকায় তিনি বিষয়টি জেলা প্রশাসককে অবহিত করেছেন। পরিবেশ অধিদপ্তর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলে তাকে আশ্বস্ত করা হলেও এখনো দৃশ্যমান কোনো সমাধান মেলেনি।