রাজধানীর উত্তরায় এক রিকশাচালককে পেটানোর অভিযোগে শপিং কমপ্লেক্স ঘেরাও করেছে বিক্ষুব্ধ রিকশা ও অটোরিকশা চালকরা। এসময় ভবনের সামনের সড়ক অবরোধ করে হট্টগোল শুরু করে তারা।
রোববার (১৫ মার্চ) রাতে শুরু হওয়া এই সহিংসতা ও দফায় দফায় সংঘর্ষে উত্তরার ১১ নম্বর সেক্টরসহ আশপাশের এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বর্তমানে এলাকায় বিপুল সংখ্যক দাঙ্গা পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
বিক্ষুব্ধ রিকশাচালকদের দাবি, রোববার রাতে উত্তরা ১১ নম্বর সেক্টরের ‘উত্তরা স্কয়ার’ শপিং মলের সামনে এক রিকশাচালককে পিটিয়েছেন ভবনের নিরাপত্তা প্রহরীরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, আহত রিকশাচালককে ভবনের ভেতরে লুকিয়ে রাখা হয় বলে গুজব ছড়ায়। এতে উপস্থিত জনতা আরও বিক্ষুব্ধ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে।
একপর্যায়ে উত্তেজিত জনতা উত্তরা স্কয়ার শপিং মলে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। বিক্ষোভের রেশ ধরে চালকরা উত্তরা পশ্চিম থানায় গিয়েও হামলা চালায় এবং ভবনের সামনে রাখা যানবাহনে অগ্নিসংযোগ করে। পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং সাধারণ মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ছোটাছুটি শুরু করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করলে এলাকাটি রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
রাতের উত্তেজনার রেশ সোমবার (১৬ মার্চ) সকালেও কাটেনি। রিকশাচালকরা উত্তরার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছেন। এতে করে উত্তরা হয়ে বিমানবন্দর ও টঙ্গীমুখী সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
রাত সাড়ে ৪টার দিকে এ বিষয়ে জানতে চাইলে উত্তরা পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী রফিক আহমেদ বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ ও র্যাবের সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে।