ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু বলেছেন, খাল খননের মাধ্যমে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান একটি দুর্ভিক্ষপূর্ণ অবস্থা থেকে দেশকে শস্য শ্যামলা বাংলাদেশে পরিণত করেছিলেন। দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করেছিলেন। ধানের সর্বোচ্চ স্থান নওগাঁ। আমাদের খাদ্যের যে চাহিদা তা আমাদেরকেই পূরণ করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী আমাকে তার টিমে রেখেছেন আপনাদের সেবা করার জন্য। আমি জানি ভূমি বিষয়ে এখানকার ১০০ জনের মধ্যে ১০০ জনেরই অভিযোগ রয়েছে। আমি ওপেনলি কিছু বলব না, বাট আই ডু সামথিং ফর পিপল। আমি জনগণের জন্য অবশ্যই সততার সঙ্গে কিছু করব।
সোমবার (১৬ মার্চ) দুপুর ১২টার দিকে নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলায় বিল লতা খালের বেলগাপুর থেকে জুলুপাড়া পর্যন্ত ১২০০ মিটার খনন কর্মসূচির উদ্বোধন শেষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, ভূমি মন্ত্রণালয় কোনো অনিয়ম দুর্নীতি না থাকে সেজন্য আমরা কাজ করছি। যারা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ছিল তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা আপনাদের সেবক হওয়ার জন্য এসেছি। আপনারা নির্দেশ করবেন, আপনাদের প্রত্যাশা পূরণ করাই আমাদের দায়িত্ব। আমাদের নেতা প্রধানমন্ত্রী কোনো প্রটোকল নেন না। সরকারি কাজ ছাড়া গাড়িতে ফ্ল্যাগ নেয় না। অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের ভাইয়েরা দূর থেকে সংবাদ শুনছেন। ক্রিমিনাল ধরেন ফোর্স দিয়ে, আমাদের নিরাপত্তার প্রয়োজন নেই। আমরা মাটি মানুষের সঙ্গে মিশে থাকি।
মিজানুর রহমান মিনু আরও বলেন, খাল পুনঃখননের মাধ্যমে এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসন হবে এবং কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। এতে স্থানীয় কৃষকরা উপকৃত হবেন।
এ সময় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষি ও জলাবদ্ধতা সমস্যার সমাধানে দীর্ঘদিন ধরে খাল পুনঃখননের দাবি জানিয়ে আসছিলেন স্থানীয় কৃষক ও বাসিন্দারা। বর্ষা মৌসুমে অতিরিক্ত পানি জমে কৃষি জমির ক্ষতি এবং শুষ্ক মৌসুমে সেচের পানির সংকট দূর করতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, খালটি খনন করা হলে এলাকার পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নত হবে এবং কৃষিজমিতে সেচ সুবিধা বৃদ্ধি পাবে। এর ফলে স্থানীয় কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় কমবে এবং ফসলের উৎপাদনও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, কৃষি ও পানি ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।