সামরিক অভ্যুত্থানের পাঁচ বছর পর পুনরায় পার্লামেন্ট বসল মিয়ানমারে

সামরিক অভ্যুত্থানের পাঁচ বছর পর মিয়ানমারে পুনরায় পার্লামেন্ট বসেছে। তবে বিরোধী দলগুলোর অংশগ্রহণ ছাড়াই অনুষ্ঠিত নির্বাচনকে ‘ভুয়া’ আখ্যা দিয়েছেন বিশ্লেষকরা। 

পার্লামেন্টে নিম্নকক্ষের স্পিকার হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন সাবেক জেনারেল ও পুলিশ প্রধান কীন ইয়ি।

তবে সংসদের ২৫ শতাংশ আসন এখনও সামরিক বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। পাশাপাশি একটি বিশেষ সুপারবডির মাধ্যমে দেশটির সর্বোচ্চ ক্ষমতা ধরে রেখেছেন মিন অং হ্লাইং।

সাম্প্রতিক নির্বাচনে বড় বিরোধী দলগুলো অংশ নিতে না পারায় ভোট প্রক্রিয়াকে ‘নকল’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। আসিয়ানসহ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোও এই নির্বাচনের ফলাফল স্বীকৃতি দেয়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতার পাশাপাশি দেশজুড়ে সশস্ত্র সংঘাত ও মানবিক সংকট আরও তীব্র হচ্ছে, যেখানে অনেক এলাকা এখনও সামরিক সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে রয়েছে।

এদিকে একই সময়ে দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে সংঘাত ও সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে।

উত্তরের শান রাজ্যে কুতকাই শহরে সাবেক মিত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী মিয়ানমার ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স আর্মি (এমডিএনএএ) এবং তা'আং ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি (টিএনএলএ)-এর মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ চলছে। ২০২৩-২০২৫ সালের সামরিক অভিযানে একই পক্ষে থাকা এই দুই গোষ্ঠী এখন একে অপরের বিরুদ্ধে লড়ছে।

অন্যদিকে দক্ষিণের থানেটচৌং এলাকায় মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে সাধারণ নাগরিকদের হত্যার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় কর্মকর্তা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, একটি গ্রাম পুলিশ স্টেশন ত্যাগের পর সেনারা গ্রামে ঢুকে নারী ও শিশুসহ কয়েকজনকে হত্যা করে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, শহর দখলের পর এমডিএনএএ প্রশাসন ও বাণিজ্যিক রুটের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে।