ভাড়া নিয়ে যাত্রী কল্যাণ সমিতির বিবৃতি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত: সড়কমন্ত্রী

ভাড়া নিয়ে যাত্রী কল্যাণ সমিতির বিবৃতি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল ইসলাম। এর কোনো ভিত্তি নেই বলেও জানান তিনি। বুধবার (১৯ মার্চ) রাতে একটি বেসরকারী টেলিভিশনের টকশোতে তিনি এসব কথা বলেন।

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘আমাকে একটা পরিবহন নাম ধরে দেখাতে বলেন, যারা টিকিটের ভাড়ার চাইতে বেশি নিয়েছে। কিছু ভুঁইফোড় সংগঠন হয়েছে, যারা বিভ্রান্তি তৈরি করতে চায় কিছু কিছু সময়ে, যাদের কোনো লোকবল নেই সুপারভিশন করার, দুই-তিনজন এসে তাদের মনগড়া কথাবার্তা বলার প্রবণতা আছে, এ থেকে সুবিধা নেওয়ারও প্রবণতা আছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি বলছি না বিচ্যুতি নেই। রাস্তাঘাটে বিচ্যুতি হয়েছে। আমরা যখন জানতে পারছি আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি। মানুষের দুর্ভোগে সুবিধা নেওয়া একটা গোষ্ঠি থাকে, তারা আড়ালে চেষ্টা করতে পারে বেশি ভাড়া নেওয়ার, কিন্তু ইচ্ছাকৃতভাবে কেউ ভাড়া বেশি নেওয়ার কোনো ঘটনা ঘটেনি।’

এর আগে,  বুধবার (১৮ মার্চ) বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী সই করা এক বিবৃতিতে ভাড়া নৈরাজ্য ও যাত্রী হয়রানী পর্যবেক্ষণের এক সংক্ষিপ্ত সমীক্ষা তুলে ধরে।

এতে যাত্রী কল্যাণ সমিতির দাবি করে, এবারের ঈদযাত্রায় শুধুমাত্র বাস-মিনিবাসে ১৪৮ কোটি টাকা অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হবে। এতে করে স্বস্তিদায়ক ঈদযাত্রায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের নৈরাজ্য গত ২০ বছরের রেকর্ড ভঙ্গ করতে চলেছে।

বিবৃতিতে সংগঠনটি আরও জানায়, বুধবার থেকে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন নগরীর সিটিবাসেও অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের নৈরাজ্য শুরু হয়েছে। নৌ-পথের বেশিরভাগ রুটে এমন নৈরাজ্যের চিত্র দেখা গেলেও সরকার বরাবরই এই অভিযোগ অস্বীকার করে মালিকদের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী গণমাধ্যমে বক্তব্য দিচ্ছে।

সংগঠনের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এবারের ঈদে ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আন্তঃজেলা ও দুরপাল্লার বাস-মিনিবাসে প্রায় ৪০ লাখ ট্রিপ যাত্রীর যাতায়াত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ছাড়াও রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন নগরীর সিটি সার্ভিসের বাসে আরও প্রায় ৬০ লাখ ট্রিপ যাত্রীর যাতায়াত হতে পারে বলে সংগঠনের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে। গত ১৪ মার্চ থেকে ১৮ মার্চ পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন এলাকায় মানুষের যাতায়াত, ঈদের অগ্রিম টিকিট সংগ্রহ ব্যবস্থাপনা, সরকারের নিয়ন্ত্রণ সংশ্লিষ্ট সামগ্রিক কার্যক্রম, পরিবহণ মালিক সমিতি ও শ্রমিক ফেডারেশনের গৃহীত ঈদযাত্রা সংশ্লিষ্ট নানান কর্মসূচি পর্যবেক্ষণ করে এই প্রতিবেদন তুলে ধরা হয়।