ঈদের নামাজের সময় নির্ধারণ নিয়ে সংঘর্ষ: ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার

ফরিদপুরে ঈদের নামাজের সময় নির্ধারণকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হওয়ায় ফরিদপুর কোতোয়ালি থানা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সোহেল মুন্সিকে (৩২) বহিষ্কার করা হয়েছে।

সোমবার (২৩ মার্চ) ফরিদপুর জেলা ছাত্রদলের সহসভাপতি শেখ এনামুল করিমুলের স্বাক্ষারিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বহিষ্কৃত সোহেল মুন্সি ফরিদপুর সদর উপজেলার কানাইপুর ইউনিয়নের রামখন্ড গ্রামের বাসিন্দা।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সোহেল মুন্সি (কোতোয়ালি থানা ছাত্র দলের সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক), আপনার বিরুদ্ধে সংগঠনের গঠনতন্ত্র, নীতিমালা ও শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট ও প্রমাণিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। আপনার কার্যকলাপ সংগঠনের আদর্শ, ঐক্য ও ভাবমূর্তিকে ক্ষুণ্ন করেছে বলে প্রতীয়মান হয়েছে। ফলস্বরূপ, ফরিদপুর জেলা ছাত্রদলের সম্মানিত সভাপতি সৈয়দ আদনান হোসেন (অনু) ও সাধারণ সম্পাদক তানজিমুল হাসান কায়েস এর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আপনাকে সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক পদ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে চূড়ান্তভাবে বহিষ্কার করা হলো। এই সিদ্ধান্ত আজ থেকে কার্যকর হবে।

এতে আরও বলা হয়, পরবর্তীতে আপনার কোনো বক্তব্য, কার্যক্রম বা পরিচয়ের দায়ভার ফরিদপুর জেলা ছাত্রদল বহন করবে না। সংগঠনের স্বার্থে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত ও প্রকাশ করা হলো।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ফরিদপুর জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সৈয়দ আদনান হোসেন বলেন,ফরিদপুর সদর উপজেলার কানাইপুর ইউনিয়নের মধ্য কাশিমাবাদ গ্রামে ঈদের দিন সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে ছাত্রদল নেতা সোহেল মুন্সীর সম্পৃক্ততার অভিযোগ আসে। পরবর্তীতে আমরা তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় তার বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, জেলা ছাত্রদল কোনো নেতার শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায় নেবে না। কাউকে শৃঙ্খলা ভঙ্গ করতেও দেবে না।

তবে এই ব্যাপারে ছাত্রদল নেতা সোহেল মুন্সীর মুঠোফোন নম্বর বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

উল্লেখ্য, গত শনিবার (২১ মার্চ) ঈদের দিন ফরিদপুর সদরের কানাইপুর ইউনিয়নের মধ্য কাশিমাবাদ গ্রামে ঈদের নামাজের সময় নির্ধারণ ও মসজিদের ইমামের বেতন বৃদ্ধি নিয়ে বিরোধের জেরে সংঘর্ষে অন্তত ১৭টি বসতঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এতে কয়েকজন আহত হন এবং এলাকায় চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এই হামলায় ছাত্রদল নেতা সোহেল নেতৃত্ব দেন বলে অভিযোগ ছিল।