টানা ঈদের ছুটিতে পর্যটকের পদভারে মুখরিত বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকতের নগরী কক্সবাজার। সমুদ্রসৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টে পা ফেলার জায়গা নেই। এক কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কে ভিড় করেছেন অন্তত ৫০ থেকে ৬০ হাজার পর্যটক। সুগন্ধার উত্তর পাশে লাবণী এবং দক্ষিণ পাশে কলাতলী পয়েন্ট পর্যন্ত আরও ৪ কিলোমিটারেও হাজারো মানুষের ভিড়।
হোটেল মালিকেরা জানান, পবিত্র রমজানে পুরো এক মাস সৈকত ফাঁকা ছিল। পাঁচ শতাধিক হোটেল, রিসোর্ট, গেস্টহাউস কটেজের ৯৭ শতাংশ কক্ষ খালি পড়ে ছিল। শনিবার এক হাজারের মতো পর্যটক ছিলেন হোটেলগুলোয়। রোববার (২২ মার্চ) ঈদের দ্বিতীয় দিন পর্যটক আসেন ৮০ হাজারের মতো। আর সোমবার এসেছেন ১ লাখ ৭০ হাজার। সব মিলিয়ে গত দুই দিনে সৈকত ভ্রমণে এলেন আড়াই লাখের মতো মানুষ।
এর আগে, ২৯ মার্চ পর্যন্ত টানা আট দিন সৈকতে অন্তত ১০ লাখ পর্যটকের সমাগম ঘটতে পারে বলে উল্লেখ করেন কক্সবাজার হোটেল রিসোর্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুকিম খান।
আজ বেলা ১১টায় সুগন্ধা সৈকতে হাজারো পর্যটকের ভিড় ঠেলে সমুদ্রের লোনাপানিতে গোসলে নামেন সিলেটের জিন্দাবাজারের সাত তরুণ। দলের অপর সদস্য আবির হোসেন ব্যস্ত ড্রোন ওড়ানো নিয়ে। ড্রোন উড়িয়ে তিনি বন্ধুদের গোসলের ভিডিও এবং বালুচরে দাঁড়িয়ে থাকা নারী-পুরুষের ছবি তুলছিলেন।
আবির হোসেন বলেন, ‘বিশাল সৈকত লোকে লোকারণ্য। ড্রোনে তোলা ছবি দেখে বলা যায়, লাখের ওপরে মানুষ হবে। ড্রোন যতই ওপরে তুলছি, দেখছি ততই মানুষ আর মানুষ।’
সৈকতে গোসলে নেমে নিখোঁজ পর্যটকদের উদ্ধার তৎপরতায় নিয়োজিত আছেন বেসরকারি সি-সেফ লাইফগার্ড প্রতিষ্ঠানের ২৭ জন কর্মী। রোজার পুরো এক মাস লাইফগার্ড কর্মীরা অলস সময় পার করলেও রোববার সকাল থেকে সবাইকে ব্যস্ত থাকতে হয়েছে। গোসলের ফাঁকে কেউ গভীর সাগরের দিকে চলে গেলে তাকে উদ্ধার করা, স্রোতের টানে কেউ ভেসে গেলে তাকে টেনে তুলে আনা—সবকিছু নজরদারিতে রাখতে হয়। বালুচরে কয়েকটি ওয়াচ টাওয়ারে বসে লাইফগার্ড কর্মীরা পানিতে নামা পর্যটকদের নজরদারিতে রাখেন।
এদিকে রোববার লাখো পর্যটক সৈকতে পানিতে নেমে গোসল সারলেও কেউ দুর্ঘটনার কবলে পড়েননি বলে জানান সি-সেফ লাইফগার্ডের ব্যবস্থাপক ইমতিয়াজ আহমদ। তিনি বলেন, সৈকতের কলাতলী থেকে লাবণী পয়েন্ট পর্যন্ত ৫ কিলোমিটারে গোসলে নেমে কোনো পর্যটক নিখোঁজ হলে কিংবা গুপ্তখালে আটকা পড়লে উদ্ধার তৎপরতার জন্য ২৭ জন লাইফগার্ড আছেন। কিন্তু কলাতলী থেকে দক্ষিণ দিকে টেকনাফ পর্যন্ত দরিয়ানগর, হিমছড়ি, ইনানী, পাটোয়ারটেক, বাহারছড়া, টেকনাফ সৈকতে গোসলে নেমে কোনো পর্যটক নিখোঁজ হলে উদ্ধার তৎপরতা চালানোর মতো সেখানে কেউ নেই। এ ক্ষেত্রে পর্যটকদের সতর্ক থাকতে হয়। কারণ, ওই সব পয়েন্টেও শত শত পর্যটক গোসলে নামেন।
বিপুলসংখ্যক পর্যটকদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে জানিয়ে ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার জোনের উপপরিদর্শক সুজন চক্রবর্তী বলেন, সে ক্ষেত্রে বালিয়াড়ি থেকে হোটেল–মোটেল জোন, মেরিন ড্রাইভ, হিমছড়ি, ইনানী, পাটোয়ারটেকসহ বিনোদনকেন্দ্রগুলোয়ও সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছে ট্যুরিস্ট পুলিশ।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান বলেন, ‘ঈদের ছুটিতে ভ্রমণে আসা পর্যটকের সার্বিক নিরাপত্তা দিতে জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে। হোটেলে অতিরিক্ত কক্ষভাড়া ও রেস্তোরাঁয় খাবারের মূল্য বাড়িয়ে আদায় হচ্ছে কি না, দেখার জন্য ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে একাধিক ভ্রাম্যমাণ আদালত মাঠে নামানো হয়েছে।’