সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলায় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।
রোববার (২২ মার্চ) রাতে উপজেলার পাথারিয়া বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, একটি ফেসবুক স্ট্যাটাসকে ঘিরে গাজীনগর গ্রামের মনির মিয়া ও আঙ্গুর মিয়ার সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। বিষয়টি মীমাংসার জন্য রাত ৯টার দিকে সালিস বৈঠক বসানো হলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
অভিযোগ রয়েছে, সালিস চলাকালেই মনির মিয়ার পক্ষের লোকজন আঙ্গুর মিয়ার মার্কেটে হামলা চালায়। এতে একটি মিনি মার্কেট ভাঙচুর, দুটি দোকান লুট এবং তিনটি মোটরসাইকেল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে আঙ্গুর মিয়ার সমর্থকরাও পাল্টা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হন।
আঙ্গুর মিয়ার পক্ষের জিয়াউর রহমান জানান, ফেসবুক পোস্টটি কে বা কার উদ্দেশ্যে দেওয়া হয়েছে তা নিশ্চিত নন তারা। তিনি দাবি করেন, পূর্বের যাত্রীছাউনি ভাঙচুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় আগে থেকেই উত্তেজনা ছিল। এরই ধারাবাহিকতায় পরিকল্পিতভাবে সালিস বৈঠকের আড়ালে আঙ্গুর মিয়ার মার্কেটে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়। এতে তাদের পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হন। গুরুতর আহত আতাউর রহমান (২৯), জাবেদ (২০) ও ইউনুস (২৪)-কে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
অন্যদিকে মনির মিয়া অভিযোগ করেন, পাথারিয়া গ্রামের বিরুদ্ধে ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে তাদের উসকানি দেওয়া হয়। এরপর আঙ্গুর মিয়ার পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়। এতে তাদের পক্ষের মোহাম্মদ আলী (৪৫), লিল মিয়া (৪০) ও মাহবুব আলী (১৮) গুরুতর আহত হন। মোহাম্মদ আলীকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং অপর দুজনকে দিরাই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। যাত্রীছাউনি ভাঙচুরের অভিযোগও তিনি অস্বীকার করেন।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও সংঘর্ষ চলতে থাকে। পরে সেনাবাহিনী এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে শান্তিগঞ্জ সেনাক্যাম্প থেকে সেনাবাহিনী গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সেনাবাহিনী ভোরে ঘটনাস্থল থেকে সাতজনকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।
শান্তিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. অলিউল্লাহ জানান, আটক সাতজনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তবে সোমবার দুপুর পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো মামলা দায়ের হয়নি।