শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার রাজনগর ইউনিয়নে শরীয়তপুরের নড়িয়ায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের সংঘর্ষ হয়েছে। এসময় শতাধিক ককটেল বিস্ফারণ ঘটানো হয়। একইসঙ্গে সংঘর্ষে আহত হয়েছেন ১৫ জন।
জানা যায়, সোমবার (২৩ মার্চ) সকালে রাজনগর ইউনিয়নের তালতলা এলাকার সোহেল কাজী ও হাফিজ ভূঁইয়ার সমর্থকদের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় দুই পক্ষের ২০টি বসতঘর ভাঙচুর করা হয়েছে।
পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দুটি অবিস্ফোরিত ককটেল উদ্ধার করেছে। পাশাপাশি এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ছয় ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে।
স্থানীয় ও থানা সূত্রে জানা যায়, সোহেল কাজী ও হাফিজ ভূঁইয়ার মধ্যে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। রোববার বিকেলে দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে কথা–কাটাকাটি হয়। আজ সকাল সাতটার দিকে দুই পক্ষের সমর্থকেরা দেশীয় অস্ত্র ও বালতিতে করে ককটেল নিয়ে সমর্থকদের বাড়িতে হামলা শুরু করেন। তখন দুই পক্ষের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এক পক্ষ আরেক পক্ষের বাড়িতে হামলা করতে থাকে। ঘণ্টাব্যাপী ওই সংঘর্ষের সময় দুই পক্ষের সমর্থকেরা শতাধিক ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়েছেন।
এতে দুই পক্ষের ১৫ জন আহত হন। আহত ব্যক্তিদের জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। একইসঙ্গে এসময় দুই পক্ষের ২০টি বসতঘর ভাঙচুর করা হয়। খবর পেয়ে সকাল আটটার দিকে ওই এলাকায় নড়িয়া থানার পুলিশ অভিযান চালায়।
ঘটনাস্থলে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সোহেল কাজী, হাফিজ ভূঁইয়াসহ তাদের পুরুষ সমর্থকেরা পালিয়ে যান। তাদের মুঠোফোন বন্ধ থাকায় বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে তাদের পরিবারের নারী সদস্যরা একে অপরের ওপর দোষ চাপিয়েছেন।
নড়িয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বাহার মিয়া বলেন, সোহেল কাজী ও হাফিজ ভূঁইয়া জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুই দলের প্রার্থীকে সমর্থন দিয়েছিলেন। নির্বাচনের পর তাদের মধ্যে ওই বিরোধ আরও বাড়ে। সংঘর্ষের সময় দুই পক্ষই ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে। পুলিশ ওই ককটেলগুলোর উৎস খুঁজছে। আর এ ঘটনায় এখনো কোনো পক্ষ মামলা করেনি।