বিওয়াইএলসির ‘রানিং উইথ পারপাস’

আন্তর্জাতিক যুব দিবস উপলক্ষে গত ২ আগস্ট যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় দেশের প্রথম নেতৃত্ব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র বাংলাদেশ ইয়ুথ লিডারশিপ সেন্টার (বিওয়াইএলসি) রাজধানীর হাতিরঝিলে ৭.৫ কিলোমিটারের একটি দৌড় প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছিল। অনুষ্ঠানটির মূল প্রতিপাদ্য ছিল ‘শিক্ষাব্যবস্থার যুগোপযোগী পরিবর্তন’।

সমাজের বিভিন্ন স্তর থেকে আগত ৫০০ জন দৌড়বিদ ‘সতেজ মনের জন্য চাই সুস্থ শরীর’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ‘বিওয়াইএলসির রানিং উইথ পারপাস’ নামক এ ইভেন্টে অংশগ্রহণ করেন। এই দৌড় প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে কয়েক শ শিশু, কিশোর, তরুণ ও প্রবীণ ঢাকার হাতিরঝিলে একত্রিত হয়ে বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থাকে আরো আনন্দদায়ক, ন্যায়নিষ্ঠ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করার লক্ষ্যে শরীরচর্চা ও ফিটনেসের প্রয়োজনীয়তার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীদের উদ্দেশে বিওয়াইএলসির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রেসিডেন্ট এজাজ আহমেদ বলেন, ‘সবাইকে একত্রিত করে শহরের এই অংশে দৌড় প্রতিযোগিতা আয়োজনের মাধ্যমে বিওয়াইএলসি সুস্বাস্থ্যের গুরুত্বকে প্রচার করতে চাচ্ছে। তরুণদের অধিকার হিসেবে ন্যায়নিষ্ঠ শিক্ষাব্যবস্থা প্রবর্তনের জন্য আমরা কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাচ্ছি। কারণ এটাই টেকসই উন্নয়ন ও পিছিয়ে পড়া সামাজিক-গোষ্ঠীসমূহকে সমাজের মূলধারায় অন্তর্ভুক্ত করার জন্য মৌলিক হাতিয়ার হিসেবে কাজ করবে।’

স্বাগত বক্তব্যে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. জাহিদ আহসান রাসেল বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের সুস্থতাকে যেন পড়াশোনার মতোই গুরুত্ব দেওয়া হয়, এই বিষয়টি আমাদের নিশ্চিত করা দরকার। এই দৌড় প্রতিযোগিতার মাধ্যমে ন্যায়নিষ্ঠ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষাকে তরুণদের আবশ্যক প্রয়োজনীয়তা হিসেবে দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য আমি বিওয়াইএলসির প্রশংসা করছি। যুব মন্ত্রণালয় তরুণদের শিক্ষার মাধ্যমে দক্ষতা-উন্নয়ন এবং সবার জন্য আজীবন শিক্ষার সুযোগ প্রবর্তন করতে কাজ করে যাচ্ছে।’

অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. মো. জাফর উদ্দিন বলেন, ‘দৌড় চর্চা শুধু সুস্বাস্থ্যই নিশ্চিত করে না, বরং এমনও প্রমাণ পাওয়া যায় যে, এটি কর্মক্ষেত্রে উত্পাদনশীলতার পাশাপাশি মানসিক সুস্থতার দিকেও ধাবিত করে। তরুণ সমাজের মানসম্মত শিক্ষার অধিকারের প্রতি সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করার লক্ষ্যে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানের আয়োজক বিওয়াইএলসিকে অভিবাদন জানাচ্ছি।’ মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন এবং ইউকেইড, প্রাভা হেলথ, পুর্ণাভা ন্যাচারালস, আবদুল মোনেম লিমিটেড ও এলিট ফোর্স এই অনুষ্ঠানটি আয়োজনে সহযোগিতা করেছে। এছাড়াও ইউনাইটেড নিউজ বাংলাদেশ (ইউএনবি) ও নাগরিক টিভি ছিল ইভেন্টের আনুষ্ঠানিক মিডিয়া পার্টনার। গত এক দশক যাবত বিওয়াইএলসি বিভিন্ন মাধ্যমের তরুণদের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করে, তাদের প্রয়োজনীয় নেতৃত্ব প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে সরকারি, বেসরকারি ও বিভিন্ন নাগরিক খাতে কাজ করতে সক্ষম করে গড়ে তুলতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। দশ বছরে তারা প্রায় ৪ হাজার তরুণকে নেতৃত্ব বিষয়ক প্রশিক্ষণ দিয়েছে।