মনোহরদীতে পোকায় ধরা ভিজিএফ চাল

নরসিংদীর মনোহরদী পৌরসভায় ভিজিএফ কার্ডধারী দরিদ্র মানুষের মাঝে বিতরণের জন্য খাদ্য গুদাম থেকে পোকায় ধরা চাল এসেছে।চালগুলোতে পোকা দেখতে পেয়ে মঙ্গলবার সকালে ৪৬দশমিক ২১৫ মেট্রিক টন চাল ফেরৎ দিয়েছেন মনোহরদী পৌর মেয়র মোহাম্মদ আমিনুর রশিদ সুজন।

খবর পেয়ে খাদ্য পরিদর্শক ও খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আলী আজহার মনোহরদী পৌরসভায় আসেন। তখন কার্ডধারীরা তাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। দীর্ঘক্ষণ অবরুদ্ধ থাকার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে পুনরায় গুদাম থেকে ভালোমানের চাল এনে কার্ডধারীদের মাঝে বিতরণ করা হয়।

এদিকে উপজেলার ১২টি ইউনিয়নেও এমন পোকায় ধরা চাল খাদ্য গুদাম থেকে সরবরাহ করা হয়। 

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে সরকারের বরাদ্দ দেওয়া বিনামূল্যের ভিজিএফ চাল বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়। প্রত্যেক কার্ডধারীরা বিনা মূল্যে ১৫ কেজি চাল পাবেন।

সে অনুযায়ী মনোহরদী পৌরসভার ৩ হাজার ৮১ জন ভিজিএফ কার্ডধারীদের মাঝে বিতরণের জন্য পাওয়া বরাদ্দের অংশ হিসেবে এই চাল পৌরসভায় পাঠানো হয়েছিলো।

জানা যায়, মনোহরদী পৌরসভা ও ১২টি ইউনিয়নে ২৮৬ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। মঙ্গলবার ১২টি ইউনিয়ন ও মনোহরদী পৌরসভায় চাল বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়। মনোহরদী পৌরসভায় চাল বিতরণের সময় কার্ডধারীরা চালে পোকা দেখতে পেয়ে তা নিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। পরে পৌর মেয়র মোহাম্মদ আমিনুর রশিদ সুজন চাল বিতরণ কার্যক্রম বন্ধ করে দেন।

মনোহরদী পৌরসভার মেয়র মোহাম্মদ আমিনুর রশিদ সুজন জানান, ‘মনোহরদী পৌর এলাকার ভিজিএফ কার্ডধারীদের মাঝে ঈদুল আহজার আগে কার্ডপ্রতি ১৫ কেজি করে চাল বিতরণ করার কথা। সে অনুযায়ী উপজেলা খাদ্য গুদাম থেকে চাল পাঠানোর পর বস্তা খোলা হলে চালে প্রচুর পোকা পাওয়া যায়। তা অতি নিম্নমানের ও খাবার অনুপযোগী। পরে এসব চাল ফেরৎ পাঠালে গুদাম কর্তৃপক্ষ ভালো মানের চাল সরবরাহ করেন।’

জানা যায়, চাল ক্রয় অভিযান চলাকালে অসাধু ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে কম দামে পোকায় ধরা চাল সংগ্রহ করে খাদ্য গুদামে রাখা হয়। নীতিমালা লঙ্ঘন করে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আকবর হোসেন মিয়া ও খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা মো. আলী আজহার যোগসাজসে অসাধু ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে উৎকোচ নিয়ে ওই চাল কেনেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

আলী আজহার আরও বলেন, ‘মনোহরদী পৌরসভার বরাদ্দের মধ্যে সোমবার যে ৪৬ দশমিক ২১৫ মেট্রিক টন চাল পাঠানো হয়েছিলো। তার মধ্যে কয়েকটি বস্তার চালে একটু সাদাটে ভাব ছিলো। দীর্ঘদিন খাদ্যগুদামে থাকার কারণে এই সমস্যা তৈরি হয়েছে। মেয়র মহোদয়ের অভিযোগের প্রেক্ষিতে আমরা এগুলো বদলে অন্য চাল দিয়েছি।’

উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. আকবর হোসেন মিয়ার কার্যালয়ে গিয়ে  না পেয়ে তার ব্যবহৃত মুঠোফোনে কয়েকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন ধরেননি।

আরও পড়ুন: মাধবপুরে পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

এ ব্যাপারে মনোহরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাফিয়া আক্তার শিমু বলেন, ‘খবর পেয়ে আমি মনোহরদী পৌরসভায় গিয়ে ভিজিএফের চালে পোকা দেখতে পেয়ে খাদ্য গুদাম কর্মকর্তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।’

ইত্তেফাক/নূহু