বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেলে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ৩ নম্বর ফেরিঘাটে ‘সৌহার্দ্য পরিবহন’-এর একটি যাত্রীবাহী বাস পদ্মায় তলিয়ে যাওয়ার ঘটনায় আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে স্বজনদের আহাজারিতে।
কুষ্টিয়া থেকে ছেড়ে আসা বাসটিতে প্রায় ৫৬ জন যাত্রী ছিলেন। দুর্ঘটনার পর সাতজন যাত্রী সাঁতরে তীরে উঠতে পারলেও নিখোঁজ রয়েছেন বাকিরা। ইতোমধ্যে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
নিখোঁজ স্ত্রী ও সন্তানকে হারিয়ে আব্দুল আজিজুল নামে এক যাত্রী ডুকরে কেঁদে উঠছেন। তিনি জানান, আগামী ২৯ মার্চ কর্মস্থলে ডিউটি থাকায় তিনি একাই ঢাকায় ফিরতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তার স্ত্রী স্বামীর সঙ্গ ছাড়তে রাজি ছিলেন না। স্ত্রী তাকে বলেছিলেন, ‘তোমারে না দেখলে আমার ভালো লাগে না, অস্থির লাগে।’ প্রিয়জনের সেই ভালোবাসাই শেষ পর্যন্ত কাল হলো।
বাসটি ফেরিতে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মার গভীর জলে তলিয়ে যায়। আব্দুল আজিজুল কোনোমতে সাঁতরে তীরে ফিরতে পারলেও চোখের সামনে স্ত্রী ও শিশুসন্তান আব্দুল্লাহকে হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তিনি। বিলাপ করতে করতে তিনি বারবার বলছিলেন, ‘কত করে কইলাম তোমরা বাড়ি থাকো, বউ শুনল না। এখন আমারে ছাইড়া কেমনে একা রাইখা চইলা গেলা! আমি এখন কী করমু?’
প্রত্যক্ষদর্শী ও বেঁচে ফেরা যাত্রীদের ভাষ্যমতে, বিকেল সোয়া ৫টার দিকে বাসটি ৩ নম্বর পন্টুন দিয়ে ফেরিতে ওঠার সময় চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। মুহূর্তের মধ্যেই বাসটি উল্টে নদীতে পড়ে তলিয়ে যায়। ঘটনার পর থেকেই নিখোঁজ যাত্রীদের স্বজনরা নদীর তীরে ভিড় জমিয়েছেন। তাদের কান্নার শব্দে পরিবেশ শোকাচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে।
রাজবাড়ী ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক দেওয়ান সোহেল রানা জানান, দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি উদ্ধারে পাটুরিয়া ও আরিচা ঘাট থেকে বিশেষ ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় ঢাকা সদর দপ্তর থেকেও অতিরিক্ত ডুবুরি টিম পাঠানো হয়েছে। উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’র সহায়তায় পানির নিচে তলিয়ে যাওয়া বাসটি শনাক্ত করে উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। তবে অন্ধকার এবং পদ্মার তীব্র স্রোতের কারণে উদ্ধার অভিযান ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।