যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে খেলতে প্রস্তুত নিউজিল্যান্ড

বিশ্বকাপের সূচি বলছে, ১৫ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে মুখোমুখি হবে নিউজিল্যান্ড ও ইরান। কিন্তু বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ম্যাচটি এখন আর কেবল ফুটবলের লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ নেই। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল জোটের সঙ্গে ইরানের সাম্প্রতিক সামরিক সংঘাত এই ম্যাচটিকে ঘিরে তৈরি করেছে চরম অনিশ্চয়তা। 

বাছাইপর্বে দুর্দান্ত খেলে সবার আগে বিশ্বকাপের টিকিট কাটলেও, ইরানি ফুটবল ফেডারেশন এখন বেঁকে বসেছে। তাদের সাফ কথা, বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে তারা গ্রুপ পর্বের কোনো ম্যাচ খেলতে আগ্রহী নয়। লস অ্যাঞ্জেলেসে নিউজিল্যান্ড ও বেলজিয়াম এবং সিয়াটলে মিশরের বিপক্ষে তাদের তিনটি ম্যাচ খেলার কথা থাকলেও ইরান ফেডারেশন সেগুলো বয়কট করার হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছে।

ইরানের এই অনড় অবস্থানের বিপরীতে নিউজিল্যান্ড ফুটবল দল বেশ বাস্তববাদী ও সহমর্মী ভূমিকা নিয়েছে। দলটির অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার রায়ান থমাস সরাসরি জানিয়েছেন, খেলার স্বার্থে তারা ভেন্যু পরিবর্তনেও রাজি। থমাস বলেন, 'ইরান যোগ্য দল হিসেবেই এখানে এসেছে। যদি আমাদের মেক্সিকো বা কানাডায় গিয়েও খেলতে হয়, আমরা সেখানেই খেলবো। এটা আমাদের জন্য কোনো সমস্যা না।'

নিউজিল্যান্ডের বর্তমান বেস ক্যাম্প ক্যালিফোর্নিয়ার সান ডিয়েগোতে, যা মেক্সিকো সীমান্তের খুব কাছে। ফলে ভেন্যু সরিয়ে মেক্সিকোতে নেওয়া হলে নিউজিল্যান্ডের প্রস্তুতিতে বড় কোনো ব্যাঘাত ঘটবে না। মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শেইনবাউমও ইতিমধ্যে ইরানের ম্যাচগুলো আয়োজনের ব্যাপারে সবুজ সংকেত দিয়ে রেখেছেন। 

২০১০ সালের পর নিউজিল্যান্ডের জন্য এটিই প্রথম বিশ্বকাপ। তাদের কাছে এই আসর যতটা আবেগের, বর্তমান পরিস্থিতিতে ফিফার কাছে এটি ততটাই মাথা ব্যথার। ফিফা এখনো ভেন্যু পরিবর্তনের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেয়নি। তারা কেবল জানিয়েছে, ইরান ফুটবল ফেডারেশনের সঙ্গে আলোচনা চলছে।