যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানের জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে হামলা ১০ দিন স্থগিত রাখার যে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে নতুন তথ্য প্রকাশ করেছেন আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাকারীরা। তাদের দাবি, তেহরান আনুষ্ঠানিকভাবে এমন কোনো অনুরোধ ওয়াশিংটনকে করেনি।
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী দাবি করেছিলেন, ইরানের অনুরোধেই আগামী ৬ এপ্রিল পর্যন্ত তাদের জ্বালানি খাতে আক্রমণ বন্ধ রাখা হবে। তবে মধ্যস্থতাকারীদের এই নতুন বক্তব্য ট্রাম্পের দাবির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হওয়ায় পুরো বিষয়টি নিয়ে এক ধরনের ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। বর্তমানে ইরান আমেরিকার দেওয়া ১৫ দফা শান্তি প্রস্তাব নিয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি এবং যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনাও বেশ ক্ষীণ বলে মনে করা হচ্ছে।
আমেরিকার পক্ষ থেকে দেওয়া ১৫ দফা প্রস্তাবের মূল বিষয়বস্তু হলো ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, ক্ষেপণাস্ত্র কার্যক্রম এবং আঞ্চলিক প্রভাব কমানোর বিনিময়ে দেশটির ওপর থেকে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা। তেহরানের কর্মকর্তারা আলোচনার বিষয়ে প্রাথমিক আগ্রহ দেখালেও তারা ওয়াশিংটনের এই শর্তগুলোকে ‘অত্যধিক এবং অযৌক্তিক’ বলে বর্ণনা করেছেন।
বিশেষ করে ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার শুরুতেই কোনো শর্ত মানতে তারা নারাজ এবং স্থায়ীভাবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করার বিষয়েও কোনো প্রতিশ্রুতি দিতে অস্বীকার করেছেন। ইরানের নেতৃত্বের পক্ষ থেকে এখনো চূড়ান্ত কোনো জবাব না আসায় মধ্যপ্রাচ্যে চলমান এই সংঘাত থামার কোনো সুনির্দিষ্ট লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।
মধ্যস্থতাকারীরা জানিয়েছেন, উভয় পক্ষই এমন সব অবস্থানে অনড় রয়েছে যা অপর পক্ষের কাছে একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়। যুক্তরাষ্ট্র চাইছে ইরান তাদের সামরিক সক্ষমতা পুরোপুরি কমিয়ে ফেলুক, অন্যদিকে ইরান চাইছে তাদের সার্বভৌমত্ব ও হরমুজ প্রণালীর ওপর অধিকার বজায় রেখে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হোক।
এই পরস্পরবিরোধী অবস্থানের কারণে একটি কার্যকর যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছানো অত্যন্ত কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। যদিও ট্রাম্প প্রশাসন ১০ দিনের একটি সময়সীমা নির্ধারণ করেছে, কিন্তু মাঠপর্যায়ে কোনো পক্ষই তাদের সামরিক অবস্থান থেকে পিছিয়ে আসেনি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ১০ দিন মূলত উভয় পক্ষের জন্য নিজেদের রণকৌশল নতুন করে সাজানোর একটি সুযোগ মাত্র।
সামগ্রিক পরিস্থিতিতে এটি স্পষ্ট যে, ইরান ও আমেরিকার মধ্যকার এই সংঘাত নিরসনে মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর প্রচেষ্টা এখনো সফল হয়নি। তেহরান তাদের জ্বালানি অবকাঠামো রক্ষার জন্য কোনো বিশেষ অনুরোধ না জানালেও তারা আমেরিকান চাপের মুখে নতি স্বীকার করতে চাইছে না।
অন্যদিকে হোয়াইট হাউস তাদের ১৫ দফা প্রস্তাবের ওপর ভিত্তি করেই সমাধান খুঁজছে। যদি আগামী ৬ এপ্রিলের মধ্যে কোনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি না হয়, তবে পুনরায় জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে বড় ধরনের হামলা শুরু হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। আপাতত বিশ্ব সম্প্রদায় দুই দেশের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে গভীর নজর রাখছে, কারণ এর ওপরই নির্ভর করছে মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা ও বৈশ্বিক তেলের বাজারের ভবিষ্যৎ।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি