প্রতিকূল আবহাওয়া ও ঝড়-বৃষ্টির কারণে নির্ধারিত সময়ের প্রায় দেড় ঘণ্টা পর কলকাতার দমদমে নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বহনকারী বিমান। এ সময় আকাশে প্রায় দেড় ঘণ্টা চক্কর কাটতে হয় বিমানটিকে।
এদিকে পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক তৎপরতা জোরদার হয়েছে। নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে তফসিল ঘোষণা করেছে। আগামী ২৩ ও ২৯ এপ্রিল দুই দফায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
পশ্চিমবঙ্গের সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্বাচনী প্রচার উপলক্ষে জেলায় জেলায় ঘুরে প্রচার শুরু করেছেন পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সরকারে ক্ষমতাসীন দল সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের সভানেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই ধারাবাহিকতাতেই বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) বর্ধমান জেলার পাণ্ডবেশ্বর এবং বীরভূমের দুবরাজপুরে তৃণমূল কংগ্রেসের জনসভায় গিয়েছিলেন তিনি।
জনসভা শেষে স্থানীয় সময় দুপুর ৩টা ৩৯ মিনিটে দুবরাজপুরের অন্ডাল বিমানবন্দর থেকে বিমানে ওঠেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিকেল ৪টার মধ্যেই কলকাতার দমদম বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা থাকলেও, প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে নির্ধারিত সময়ে অবতরণ সম্ভব হয়নি।
বিমানটি কলকাতার আকাশে পৌঁছালেও ঝড়-বৃষ্টি ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে দমদম বিমানবন্দরের এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল অবতরণের অনুমতি দেয়নি। প্রায় আধঘণ্টা দমদমের আকাশে চক্কর কাটার পর বিমানটি বেহালার দিকে সরে গিয়ে ফ্লাইং ক্লাবে টানা তিনবার অবতরণের চেষ্টা করে, কিন্তু প্রতিবারই ব্যর্থ হয়।
পরে আবার দমদমের দিকে ফিরে এসে স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ১৯ মিনিটে নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করে বিমানটি। ফলে নির্ধারিত সময়ের তুলনায় প্রায় দেড় ঘণ্টা আকাশে ঘোরাফেরা করতে হয় উড়োজাহাজটিকে।
আনন্দবাজারের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বিমানবন্দর থেকে মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি বাড়িতে ফিরে যান। গাড়ি থেকে সামান্য হাত নেড়ে অভিবাদন জানান তিনি, তবে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।
বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে বিমানের গতিবিধির উপর নজরদারি চালায় ফ্লাইট রেডার ২৪ ডট কম। সেখান থেকে প্রাপ্ত তথ্য বলছে, কলকাতা বিমানবন্দরে নামতে না-পেরে মুখ্যমন্ত্রীর বিমান বেহালার দিকে ঘুরে গিয়েছিল। এই দেড় ঘণ্টায় কখনও বিমানের উচ্চতা কমেছে, কখনও বেড়েছে। একাধিকবার দেখা গিয়েছে, বিমানটি দক্ষিণের দিকে সরে যাচ্ছে। আবার কিছুক্ষণ পরে তা দমদমের দিকে ফিরে এসেছে। দীর্ঘক্ষণ উৎকণ্ঠার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল।
মমতা ছোট প্রাইভেট জেটে জেলা সফর করছেন। দীর্ঘক্ষণ অবতরণের অনুমতি না-পাওয়ায় মুখ্যমন্ত্রীর বিমানের জ্বালানি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। পর্যাপ্ত জ্বালানি রয়েছে কি না, কতক্ষণ বিমান আকাশে চক্কর কাটতে পারবে, অনেকেই তা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছিলেন। সেক্ষেত্রে ফের বিমানটি অন্ডালে ফিরে যাবে কি না, নিকটবর্তী অন্য কোনও বিমানবন্দরের দিকে ঘুরে যাবে কি না, তা নিয়েও আলোচনা হয়।
উল্লেখ্য, কলকাতা ও শহরতলিতে বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে ঝড়বৃষ্টির পূর্বাভাস ছিলই। আরও কিছুদিন তা চলবে। বিকেলে এত বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইছিল যে, কলকাতা বিমানবন্দরে মুখ্যমন্ত্রীর জন্য প্রস্তুত মঞ্চ তছনছ হয়ে যায়। শুক্রবার তার আর কোনও প্রচার কর্মসূচি নেই। তৃণমূল সূত্রে খবর, মুখ্যমন্ত্রী বিশ্রাম করবেন। শনিবার থেকে আবার তিনি প্রচারে নামবেন।