পুলিশের কাছ থেকে সকালে হাতকড়াসহ আসামি ছিনতাই, রাতে গ্রেপ্তার

বরিশালের মুলাদীর জয়ন্তী নদী থেকে হাতকড়াসহ বাচ্চু খান নামে এক আসামিকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পরে অভিযান চালিয়ে সেই আসামিকে আবারও গ্রেপ্তারের তথ্য জানিয়েছে পুলিশ।

রোববার (২৯ মার্চ) মুলাদী থানার ওসি আরাফাত জাহান চৌধুরী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। এর আগে শনিবার রাতে চরকালেখান এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।

বাচ্চু খান উপজেলার চরকালেখান ইউনিয়নের ভেদুরিয়া গ্রামের আমির হোসেন খানের ছেলে। গত শনিবার দুপুরের দিকে মৃধারহাট-ভেদুরিয়া খেয়াঘাট এলাকায় জয়ন্তী নদীর মধ্যে ট্রলার থেকে তাকে ছিনিয়ে নিয়েছিল তার লোকজনেরা।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ভেদুরিয়া গ্রামের ছালাম মুন্সীর বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে মুলাদী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মমিন উদ্দিনের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে বাচ্চু খানকে আটক করেন। তাকে নিয়ে থানায় রওয়ানা দিয়ে নদী পারাপারের সময় ভেদুরিয়া থেকে ট্রলারটি জয়ন্তী নদীর মাঝখানে পৌঁছালে ৪টি ট্রলারে শতাধিক লোক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পুলিশের ট্রলার ঘিরে ফেলে এবং হাতকড়াসহ বাচ্চু খানকে ছিনিয়ে নেয়।

এই ব্যাপারে মুলাদী থানার ওসি আরাফাত জাহান চৌধুরী বলেন, হাতকড়াসহ আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ নিয়ে অভিযান করা হয়। পরে রাতেই ওই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হামলার ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মুলাদীতে একটি বাড়িতে হামলা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। ঘটনায় ছালাম মুন্সীর স্ত্রী রাশিদা বেগম বাদী হয়ে বাচ্চু খানসহ ৩৬ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা ৯ জনসহ ৪৫ জনকে আসামি করে শনিবার রাতে মুলাদী থানায় মামলা করেছেন। এই ঘটনায় বাচ্চু খানকে আটকের পর আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটে।