ঢাকার বাতাস ‘অস্বাস্থ্যকর’ তালিকার শীর্ষে থাইল্যান্ডের চিয়াং মাই

বিশ্বের দূষিত শহরের দিক থেকে নবম স্থানে রয়েছে রাজধানী ঢাকা। এখন পর্যন্ত রাজধানীর এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (একিউআই) ছিল ১২৮, যা মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।

বুধবার (১ এপ্রিল) সকাল সোয়া ১১টার দিকে বৈশ্বিক বায়ুদূষণ পর্যবেক্ষণ সংস্থা আইকিউএয়ারের তালিকায় দেখা যায়, ঢাকার বায়ুর মান ‘অস্বাস্থ্যকর’ পর্যায়ে রয়েছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য বিশেষ করে শিশু, প্রবীণ এবং শ্বাসকষ্ট বা হৃদরোগে আক্রান্তদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

তালিকার শীর্ষে রয়েছে থাইল্যান্ডের চিয়াং মাই, যার একিউআই স্কোর ২৪৯—এটি ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ স্তরে। দ্বিতীয় স্থানে পাকিস্তানের লাহোর (১৬৫), তৃতীয় চীনের সাংহাই (১৫৭) ও চতুর্থ স্থানে রয়েছে মিয়ানমারের ইয়াঙ্গুন আর পঞ্চম অবস্থানে নেপালের কাঠমান্ডু (১৫৩)। 

এছাড়া তালিকার অন্যান্য শহরের মধ্যে রয়েছে—ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তা (১৪২), চীনের উহান (১৩২), ভারতের দিল্লি (১২৪) ও রাশিয়ার ক্রাসনোইয়ার্স্ক (১১২)।

মূলত একিউআই স্কোর শূন্য থেকে ৫০ ভালো হিসেবে বিবেচিত হয়। ৫১ থেকে ১০০ মাঝারি হিসেবে গণ্য করা হয়। আর সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর বিবেচিত হয় ১০১ থেকে ১৫০ স্কোর। স্কোর ১৫১ থেকে ২০০ হলে তাকে ‘অস্বাস্থ্যকর’ বায়ু বলে মনে করা হয়।

২০১ থেকে ৩০০-এর মধ্যে থাকা একিউআই স্কোরকে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ বলা হয়। এ অবস্থায় শিশু, প্রবীণ এবং অসুস্থ রোগীদের বাড়ির ভেতরে এবং অন্যদের বাইরের কার্যক্রম সীমিত রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়। আর ৩০১-এর বেশি হলে তা ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ পর্যায়ে পড়ে, যা গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে।

বাংলাদেশে একিউআই নির্ধারণ করা হয় দূষণের কয়েকটি প্রধান উপাদানের ওপর ভিত্তি করে—বস্তুকণা (পিএম-১০ ও পিএম-২.৫), নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড (NO₂), কার্বন মনোক্সাইড (CO), সালফার ডাই-অক্সাইড (SO₂) এবং ওজোন (O₃)।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বস্তুকণা পিএম-২.৫ সবচেয়ে ক্ষতিকর, যা সরাসরি ফুসফুসে প্রবেশ করে ক্যানসার, হৃদরোগসহ নানা জটিল রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। এছাড়া যানবাহনের ধোঁয়া, শিল্পকারখানার নির্গমন এবং জ্বালানি পোড়ানোর ফলে বায়ুদূষণ ক্রমেই বাড়ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে নগরবাসীর জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠছে।