সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা ধরে রাখার লক্ষ্য নিয়ে শুক্রবার (৩ এপ্রিল) শক্তিশালী ভারতের মুখোমুখি হচ্ছে বাংলাদেশ। মালদ্বীপের জাতীয় স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় রাত ৯টায় শুরু হতে যাওয়া এই হাইভোল্টেজ ম্যাচে ট্রফি জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।
দেশ ছাড়ার আগেই বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক মিঠু চৌধুরী ঘোষণা করেছিলেন, যেকোনো মূল্যে ভারতকে হারিয়ে তাঁরা চ্যাম্পিয়ন হতে চান। টুর্নামেন্টের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন হিসেবে মাঠের লড়াইয়ে নামা বাংলাদেশের সামনে এখন সেই লক্ষ্য পূরণের চূড়ান্ত সুযোগ। কোচ মার্ক কক্সের অধীনে যুবারা তাদের শ্রেষ্ঠত্ব অক্ষুণ্ণ রাখতে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাবে বলে ফুটবল প্রেমীদের প্রত্যাশা।
টুর্নামেন্টের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ফাইনালে ওঠার পথে দুই দলই বেশ দাপট দেখিয়েছে। গ্রুপ পর্বের লড়াইয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র হওয়ায় মাঠের লড়াইয়ে দুই পক্ষই সমানে সমান ছিল। সেমিফাইনালে নেপালকে ১-০ গোলে হারিয়ে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে বাংলাদেশ।
অন্যদিকে, দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ভুটানের জালে ৫ গোল দিয়ে ৫-০ ব্যবধানের বিশাল জয় তুলে নিয়ে নিজেদের শক্তির জানান দিয়েছে ভারত। অতীতের পরিসংখ্যানে বয়সভিত্তিক ফুটবলের ফাইনালে ভারতের কাছে হারের কিছু তিক্ত স্মৃতি থাকলেও, গ্রুপ পর্বে পিছিয়ে থেকেও ভারতের বিপক্ষে ড্র করার লড়াকু মানসিকতা আজ মিঠু-ফয়সালদের আত্মবিশ্বাসের বড় জোগানদাতা হিসেবে কাজ করবে।
বাংলাদেশ দলের সবচেয়ে বড় শক্তির জায়গা হিসেবে ধরা হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী ‘সুলিভান ব্রাদার্স’ খ্যাত দুই ভাইকে। আসরজুড়ে দুর্দান্ত ছন্দে থাকা রোনান সুলিভান পাকিস্তানের বিপক্ষে অভিষেকেই জোড়া গোল করে নজর কেড়েছেন। সেমিফাইনালে নেপালের বিপক্ষে তাঁর একটি চমৎকার গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হলেও পুরো ম্যাচে তিনি আলো ছড়িয়েছেন।
তাঁর ভাই ডেক্লান সুলিভানও নেপাল ম্যাচে শেষ মুহূর্তে মাঠে নেমে নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন। ফুটবল ভক্তদের প্রত্যাশা, শিরোপা নির্ধারণী এই ম্যাচে ডেক্লানকে শুরু থেকেই মাঠে দেখা যাবে। রোনান ও ডেক্লানের সমন্বয় ভারতের রক্ষণভাগের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের অতীত সাফল্যের ইতিহাস বেশ উজ্জ্বল। ২০২৪ সালের ফাইনালে নেপালকে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল বাংলাদেশ। যদিও ২০২২ সালের ফাইনালে ভারতের কাছে হারের বেদনাদায়ক অভিজ্ঞতা রয়েছে, তবে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন হিসেবে এবারের লড়াইয়ে মানসিকভাবে এগিয়ে থাকবে কক্সের শিষ্যরা।
মাঠের লড়াই শুরুর আগে ট্রফি নিয়ে দুই দলের অধিনায়ক ও কোচের ফটোসেশন সম্পন্ন হয়েছে, যেখানে দুপক্ষই জয়ের ব্যাপারে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে। দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলের এই শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত জয়ের হাসি কারা হাসবে, তা দেখার জন্য মুখিয়ে আছে ফুটবল বিশ্ব।