ইউক্রেনে রাশিয়ার ভয়াবহ হামলা, নিহত ১৫

ইউক্রেন জুড়ে ফের ভয়াবহ তাণ্ডব চালিয়েছে রুশ বাহিনী। শুক্রবার ও শনিবার দিনভর চালানো রাশিয়ার এই ‘ম্যাসিভ’ বা ব্যাপক হামলায় অন্তত ১৫ জন প্রাণ হারিয়েছেন। কিয়েভ ও এর পার্শ্ববর্তী শহরগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে চালানো এই হামলায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষের জীবন। একদিকে কিয়েভ যখন আসন্ন ইস্টার উৎসব উপলক্ষে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিচ্ছে, অন্যদিকে ক্রেমলিন সেই প্রস্তাবকে তোয়াক্কা না করে হামলার তীব্রতা বাড়িয়ে চলেছে।

ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের দাবি, মস্কো এখন তাদের রণকৌশলে পরিবর্তন এনেছে। রাতের পরিবর্তে দিনের আলোতে হামলা চালিয়ে বেসামরিক নাগরিকদের জানমালের ক্ষতি বাড়ানোই এখন রাশিয়ার মূল লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী রুশ বাহিনী এখন কেবল বিদ্যুৎ বা জ্বালানি অবকাঠামো নয়, বরং গুরুত্বপূর্ণ অন্য সব স্থাপনাকেও লক্ষ্যবস্তু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

আঞ্চলিক সামরিক প্রশাসনের প্রধান মাইকোলা কালাশনিক জানান, কিয়েভের নিকটবর্তী বুচা, ফাস্টিভ এবং ওবুখিভ শহরে হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বুচা শহরে রুশ বাহিনীর পূর্ববর্তী নৃশংসতার স্মৃতি চার বছর পার হতে না হতেই সেখানে পুনরায় এই আঘাত সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত করে তুলেছে। এছাড়া সুমি অঞ্চলে একটি আবাসিক ভবনে রাশিয়ার গাইডেড বোমা হামলায় একজন নিহত হয়েছেন। খেরসন, ঝাইটোমির ও দোনেৎস্ক থেকেও হতাহতের খবর পাওয়া গেছে। নিকোপোল শহরে রাতভর হামলায় ৫ জন নিহত ও ২৭ জন আহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছে স্থানীয় প্রশাসন।

ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা এক বার্তায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মস্কো ইউক্রেনের যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবের জবাব দিচ্ছে কয়েকশ ড্রোন ও ক্রুজ মিসাইল দিয়ে। এটি তাদের বর্বরতারই বহিঃপ্রকাশ।

এদিকে, জেলেনস্কি আগামী ১২ এপ্রিলের ইস্টার উৎসবকে কেন্দ্র করে সাময়িক যুদ্ধবিরতির যে প্রস্তাব দিয়েছেন, তাতে রাশিয়ার ইতিবাচক সাড়া মেলেনি। ক্রেমলিন মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানিয়েছেন, তারা সাময়িক কোনো যুদ্ধবিরতি নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদী স্থায়ী সমাধান চান।

পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ইউক্রেনও রাশিয়ার অভ্যন্তরে শক্তিশালী ড্রোন হামলা চালিয়েছে। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা ১৯২টি ইউক্রেনীয় ড্রোন ভূপাতিত করেছে। তবে সীমান্ত থেকে ১১০০ কিলোমিটার দূরে লেনিনগ্রাদ অঞ্চলের একটি সামরিক সরঞ্জাম তৈরির কারখানায় ইউক্রেনীয় ড্রোন আঘাত হানতে সক্ষম হয়েছে। এতে কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। বেলগোরোদ এবং মস্কো অভিমুখে আসা বেশ কিছু ড্রোনও ধ্বংস করার দাবি করেছে রুশ প্রশাসন।