যাকে নিয়ে এত কথা তাকে রাখতে শত চেষ্টা

বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের স্প্যানিশ কোচ হ্যাভিয়ের কাবরেরা শুক্রবার দেশে চলে গেছেন। গতকাল নতুন কোচের বিষয়ে সভা করেছে বাফুফের সভাপতি তাবিথ আউয়ালের নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল টিমস কমিটি। হ্যাভিয়ের কাবরেরা মেয়াদ শেষ হবে ৩০ এপ্রিল। বাফুফে এই কোচের সঙ্গে নতুন চুক্তি করবে নাকি নতুন কোচ আনবে তা নিয়েই ফুটবল ভবনে সভা। সিদ্ধান্ত হয়েছে কোচ নিয়োগে নতুন করে বায়োডাটা সংগ্রহ করবে বাফুফে। যারা জাতীয় দলের দায়িত্ব গ্রহণ করতে চান তারা আবেদন করতে পারবেন। সেখান থেকে যাচাই বাছাই করে কোচ নিয়োগ চূড়ান্ত করা হবে। 

এ কথা পর্যন্ত বুঝা যায়, বাফুফে নতুন কোচ খুঁজবে। কথা শুনে মনে হতে পারে, হ্যাভিয়ের কাবরেরার বিদায় হয়ে গেছে। কিন্তু খেলা এখনো বাকি আছে। কাবরেরার জন্য বাফুফে দুয়ার খুলে রেখেছে। বাফুফে নিজেই বলছে হ্যাভিয়ের কাবরেরাও বাংলাদেশ দলের কোচ হওয়ার জন্য আবেদন করতে পারবেন। বাফুফে একটি বারের জন্যও বলেনি কাবরেরার আনুষ্ঠানিক বিদায় হয়ে গেছে। তার সঙ্গে বাংলাদেশের পাঠ চুকে গেছে। 

ন্যাশনাল টিমস কমিটির সভা শেষে বাফুফের সদস্য আমিরুল ইসলাম বাবু সংবাদমাধ্যমকে জানালেন, যারা আবেদন করবেন তাদের মধ্যে হ্যাভিয়ের কাবরেরাও আবেদন করতে পারবেন। তিনি বলেননি যে, কাবরেরাকে বিদায় করে দেওয়া হয়েছে, কাবরেরা আবেদন করলেও তাকে বাফুফে নিয়োগ দেবে না। যদি নিয়োগ দিতে চাইত তাহলে এখনই আলোচনা চূড়ান্ত করে রাখা হতো-এমন কিছুই বলেনি বাফুফে। কাবরেরাও অন্য কোথাও চাকরি নিশ্চিত করেছেন-এমন কথাও বাফুফেকে জানাননি।

বাফুফের মুখপাত্র মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান আমিরুল ইসলাম বাবু। তিনি বাফুফের শীর্ষ কর্তাদের মানসিক অবস্থান জেনে বুঝেই সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলে জানিয়েছেন, হ্যাভিয়ের কাবরেরা আবেদন করতে পারবেন। এক কথায় পরিষ্কার যে, কাবরেরা অন্য কোথাও কাজ করছেন না, তিনি বাংলাদেশেই কাজ করবেন। যখন কোচদের বায়োডাটা যাচাই বাছাই করা হবে সেখানে যদি এমন কোনো কোচের বায়োডাটা পাওয়া যায় যে, কাবরেরাকে সবকিছু ব্যাটে-বলে মিলে যায়। তাহলে হয়তো কাবরেরার আবেদন নাকচ করা হবে। 

কিন্তু সেই সুযোগ চন্দ্রবিন্দুর সমান। কারণ এ বছর সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ। নতুন কোচ দায়িত্ব গ্রহণ করলে, তিনি খেলোয়াড়দেরকে চিনবেন, বুঝবেন-সময় লেগে যাবে। তার চেয়ে ভালো পুরোনো কোচ থাকলে তাকে নতুন করে চিনতে-জানতে এবং বুঝতে গিয়ে সময় ক্ষেপণ করতে হবে না। সেই বিবেচনায় কাবরেরাই থাকুক। কাবরেরার থেকে যাওয়ার সিংহভাগ সম্ভাবনা রয়েছে।

কাবরেরা পারফরম্যান্স কেমন ছিল? তার পারফরম্যান্স নিয়ে বাফুফের শীর্ষ কর্তারা সন্তুষ্ট নাকি অসন্তুষ্ট? এই প্রশ্নের জবাব এড়িয়ে গেছেন শীর্ষ কর্তাদের প্রতিনিধি হয়ে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে আসা আমিরুল ইসলাম বাবু। একই প্রশ্ন দ্বিতীয়বার করা হলেও তিনি এর জবাব এড়িয়ে যান। তিনি বলেন, 'আমরা কাউকে অগ্রাধিকার দিব না। আমাদের ন্যাশনাল টিম ম্যানেজমেন্ট কমিটির সকল কর্মকর্তা ওখানে উপস্থিত ছিলেন। সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয় এবং সর্বসম্মতিক্রমে আমাদের আলাপ-আলোচনা হয়েছে এবং এই আলাপ-আলোচনায় আমরা আজকে থেকেই আমরা সিভি নেওয়া শুরু করবো। আমরা বিদেশেও যোগাযোগ করবো, প্রত্যেকটা দেশের অ্যাম্বাসির সঙ্গে যোগাযোগ করবো, যদি কারো কাছে আরও বেটার কোনো কিছু থাকে তাহলে আমরা তাকেই আমরা গ্রহণ করবো। আজকে থেকেই আমরা কোচ দেখা শুরু করে দিচ্ছি।'

হ্যাভিয়ের কাবরেরাকে নিয়ে অনেক কথা, সমালোচনা হয়। তিনি ১৩/১৪ লাখ টাকা বেতন পান। কিন্তু জাতীয় দলের খেলা না থাকলে তিনি বেশির ভাগ সময় ছুটিতে বিদেশে থাকেন। খুব কম সময় তিনি বাংলাদেশে অবস্থান করেন। এই কোচ কোনো দেশের জাতীয় দলের দায়িত্ব পালন করেননি। বাংলাদেশের জাতীয় দল-ই ছিল তার ক্যারিয়ারের প্রথম কোনো দেশ। এত বড় সুযোগ পেয়েও সাফল্য দিতে পারেননি। তিনি কখনো প্রতিভাবান ফুটবলার খুঁজে বের করার চেষ্টাও করেননি। কোচের তালিকায় মুখস্ত কিছু ফুটবলার ছিল তারাই ঘুরে ফিরে জাতীয় দলে খেলেছেন। আক্ষেপ রয়েছে ফুটবলারদের। প্রিমিয়ার ফুটবল লিগের বাইরেও যে আরও লিগ হয়, সেখানে প্রতিভাবান ফুটবলার থাকতে পারে, খুঁজে বের করা যায় কি না সেই চেষ্টা করেননি কোচ।