কচুরিপানায় ভরে গেছে মেঘনা নদী, ব্যহত নৌ-চলাচল

নরসিংদী সদর উপজেলার মেঘনা নদীর প্রায় পুরো অংশ জুড়েই কচুরিপানায় ভরে গেছে। কচুরিপানায় ভরে থাকায় নৌ-চলাচল বিঘ্ন হচ্ছে। এতে জন-জীবনে ব্যাপক দুর্ভোগ দেখা দিয়েছে। ভোগান্তির শিকার হচ্ছে সদর উপজেলার চরাঞ্চলের ৪টি ইউনিয়নসহ পুরো চরাঞ্চলবাসী। 

এসব অঞ্চলে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য কাঁচামাল, চাল, ডাল, তেল, লবণসহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র আনা-নেওয়া হয় নদীপথে। নদীতে অতিরিক্ত কচুরিপানা থাকায় লঞ্চ, স্টিমার, স্পিডবোর্ড, ইঞ্জিন চালিত নৌকা চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। এক স্থান থেকে আরেক স্থানে নদীপথে যেতে ৩/৪ গুন বেশি সময় লাগছে। আগে যেসব স্থানে যেতে সময় লাগতো ১ ঘন্টা এখন লাগছে ৩ থেকে ৪ ঘণ্টারও বেশি।  

নরসিংদীর মেঘনা নদীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে নরসিংদী শহরের থানা ঘাট হতে করিমপুর, অন্যদিকে সুইচগেট এলাকা পর্যন্ত নদী পথ দখল করে নিয়েছে ভাসমান কচুরিপানা। এতে গত দুই মাস ধরে ভোগান্তিতে পড়েছে চরাঞ্চলবাসী।

ইমন মিয়া নামে নৌকার এক মাঝি জানান, ‘কচুরিপানার কারনে ঠিকভাবে নৌকা চালাতে পারিনা। একটু পরপরই ভাসমান কচুরিপানায় আটকে যায় নৌকা। এসময় লগি বৈঠা দিয়ে আটকে যাওয়া নৌকাকে মুক্ত করতে অনেক বেগ পেতে হয়।’

প্রতি বছরই এসময় নরসিংদীর মেঘনা নদী দখল করে নেয় ভাসমান কচুরিপানা।  সুমন মিয়া নামে এক স্পিডবোট চালক বলেন, ‘বর্তমানে নদীতে কচুরিপানা এতটাই বেড়েছে যে বোট চালানো বন্ধ হয়ে গেছে।’

নরসিংদী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নাজমুল ইসলাম জানান, ‘ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসনের নির্দেশে নরসিংদী সদর উপজেলার ইউএনওকে বোট লাগিয়ে মেঘনা নদী থেকে কচুরিপানা সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শীঘ্রই তারা এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নিবে। এছাড়াও বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন (বিআইডব্লিউটিএ) কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’