আফ্রিকা মহাদেশে ক্রিকেটের প্রসার ও জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এশিয়া কাপের আদলে একটি নতুন টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট আয়োজনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে আফ্রিকা ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন (এসিএ)।
২০২৭ সালের মধ্যেই এই প্রস্তাবিত আসরটি মাঠে গড়ানোর জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম নিশ্চিত করেছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে আফ্রিকান ক্রিকেটে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। মূলত মহাদেশের শীর্ষ দলগুলোর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বাড়ানোর লক্ষ্যেই এই বৃহৎ পরিকল্পনার ছক আঁকা হচ্ছে।
ক্রীড়াভিত্তিক জনপ্রিয় ওয়েবসাইট ইএসপিএনক্রিকইনফোর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এই টুর্নামেন্টে প্রাথমিক পর্যায়ে ছয়টি দল অংশ নিতে পারে। মহাদেশের সবচেয়ে শক্তিশালী দল দক্ষিণ আফ্রিকা ছাড়াও জিম্বাবুয়ে ও নামিবিয়ার মতো শীর্ষ দলগুলোর অংশগ্রহণ এখানে নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।
বিশেষ করে দক্ষিণ আফ্রিকাকে এই আসরে অন্তর্ভুক্ত করাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে আয়োজক সংস্থাটি, কারণ তাদের উপস্থিতি টুর্নামেন্টের মান ও বাণিজ্যিক আবেদন বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। তবে টুর্নামেন্টের সুনির্দিষ্ট সময়সূচি ও ভেন্যু নিয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি এসিএ।
এদিকে এই টুর্নামেন্ট আয়োজনে ক্রিকেট দক্ষিণ আফ্রিকা (সিএসএ) ইতিবাচক আগ্রহ প্রকাশ করলেও তারা এখনই চূড়ান্ত কোনো প্রতিশ্রুতি দিতে নারাজ। সিএসএ জানিয়েছে, পরবর্তী আইসিসি ফিউচার ট্যুরস প্রোগ্রাম (এফটিপি) চূড়ান্ত হওয়ার পরেই তারা এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।
বর্তমান এফটিপির মেয়াদ ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে, তাই নতুন সূচি নির্ধারণের ওপরই মূলত এই টুর্নামেন্টের ভাগ্য নির্ভর করছে। এসিএ আশাবাদী, সব দেশের ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে সমন্বয় করে একটি টেকসই সূচি তৈরি করা সম্ভব হবে।
আফ্রিকান দেশগুলোর এই সমন্বিত উদ্যোগ এমন এক সময়ে সামনে এল যখন ইউরোপীয় ক্রিকেটে এই ধরনের কোনো পরিকল্পনা সফল হচ্ছে না। ব্যস্ত আন্তর্জাতিক সূচির দোহাই দিয়ে ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি) এশিয়া কাপের আদলে কোনো টুর্নামেন্টে অংশ নিতে অনীহা প্রকাশ করেছে।
বিপরীতে আফ্রিকান ক্রিকেট বোর্ডগুলো একজোট হয়ে মহাদেশীয় ক্রিকেটের মানোন্নয়নে যে উদ্যোগ নিয়েছে, তাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে আইসিসিও। এই টুর্নামেন্ট সফল হলে ভবিষ্যতে আফ্রিকা থেকে আরও মানসম্মত ক্রিকেটার বিশ্বমঞ্চে উঠে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।