বার্সেলোনার আরসিডিই স্টেডিয়ামে গত ৩১ মার্চ স্পেন ও মিশরের মধ্যকার প্রীতি ম্যাচে গ্যালারির অসভ্যতার কারণে শাস্তির মুখে পরতে যাচ্ছে স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশন। সেদিন ম্যাচ চলাকালীন সময়ে গ্যালারির একাংশ থেকে উগ্র স্লোগান শোনা যায়। তারা চিৎকার করে বলতে থাকে, 'যে লাফাবে না, সে মুসলিম।' এই বিদ্বেষমূলক ভাষা মুহূর্তেই বিশ্ব জুড়ে তীব্র সমালোচনার জন্ম দেয়।
এক বিবৃতিতে ফিফা নিশ্চিত করেছে, তারা স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক শৃঙ্খলাভঙ্গের তদন্ত শুরু করেছে। ফিফা মনে করে, মিশরের বিপক্ষে ম্যাচে দর্শকদের এই আচরণ আন্তর্জাতিক ফুটবলের নীতির পরিপন্থি। কেবল ফিফাই নয়, স্পেনের স্থানীয় পুলিশও এই ঘটনার তদন্ত করছে। তারা এই স্লোগানকে ইসলামবিদ্বেষী ও বিদেশিবিদ্বেষী অপরাধ হিসেবে দেখছে। বিষয়টি এখন আদালত ও ফিফার শৃঙ্খলা কমিটির হাতে চলে গেছে।
স্পেনের রাজনৈতিক অঙ্গনেও এই ঘটনা বড় কম্পন সৃষ্টি করেছে। প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ এই ঘটনাকে সরাসরি অগ্রহণযোগ্য বলে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, এক অসভ্য সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর জন্য পুরো দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হতে পারে না। এই বিদ্বেষ স্প্যানিশ সংস্কৃতির অংশ নয় বলে দাবি করেন তিনি।
স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনও এই স্লোগানের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে। তবে স্প্যানিশ ফুটবলে বর্ণবাদ বা বিদ্বেষের ঘটনা এবারই প্রথম নয়। এর আগে রিয়াল মাদ্রিদের ব্রাজিলিয়ান তারকা ভিনিসিয়ুস জুনিয়র বারবার বর্ণবাদের শিকার হয়েছেন। এই নতুন বিতর্ক পুরোনো ক্ষতকেই যেন আবারও সামনে নিয়ে এলো। ফিফার এই পদক্ষেপ স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, গ্যালারির আচরণ এখন আন্তর্জাতিক ফুটবলে কঠোর নজরদারির আওতায়।