বিসিবিতে কে এলো-গেল, মাথাব্যথা নেই সাকিবের

২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দেশের অন্যান্য খাতের মতো বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডেও (বিসিবি) লেগেছে পরিবর্তনের হাওয়া। গত ৫ আগস্টের পর থেকে চলতি মাসের ৭ তারিখ পর্যন্ত বিসিবিতে তিনবার সভাপতি বদল হয়েছে। সবশেষ বোর্ড সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বাধীন পর্ষদ ভেঙে দিয়ে তামিম ইকবালকে প্রধান করে ১১ সদস্যের অ্যাডহক কমিটি গঠন করেছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি)।

বোর্ডের এমন অস্থিরতা ও বারবার রদবদল নিয়ে জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক সাকিব আল হাসান জানিয়েছেন, এসব নিয়ে তার বিন্দুমাত্র আগ্রহ নেই।

দেশের একটি অনলাইন পোর্টালকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সাকিব বলেন, ‘এগুলো নিয়ে আমার কোনো আগ্রহ নেই। কে আসলো, কে গেল কিংবা এটা হলে কী হতো এসব নিয়ে আমার কোনো ভাবনা নেই।’ ক্রিকেটে প্রশাসনের এই টানাপোড়েনে ক্রিকেটাররাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘একটা কথাই বলব, যেটা আমি কিছুদিন আগে বলেছিলাম, প্লেয়াররাই কেবল ভুক্তভোগী। এখন যেহেতু একটা বোর্ড এসেছে, তাদের বেশিরভাগই ক্লাবের প্রতিনিধিত্ব করছে। আশা করি ঢাকা লিগটা দ্রুত শুরু হবে, প্লেয়ারদের জন্য উপকার হবে।’

বিসিবিতে এর আগে ফারুক আহমেদ ও আমিনুল ইসলাম বুলবুলের মতো সাবেক অধিনায়করা দায়িত্ব নিলেও তারা প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি। সাবেক ক্রিকেটারদের এই ব্যর্থতা তাকে হতাশ করে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে সাকিব ভিন্ন এক ব্যাখ্যা দেন। তিনি মনে করেন, ব্যক্তি হিসেবে তাদের ব্যর্থতার চেয়ে তৎকালীন সরকারের প্রভাবই বেশি দায়ী ছিল।

সাকিব বলেন, ‘অবশ্যই খারাপ লাগার বিষয়। তবে আমার মনে হয়, তাদের ব্যর্থতার চেয়ে তখন যারা সরকারে ছিল, তাদের দায়টাই বেশি। তাদের সিদ্ধান্তের কারণেই বুলবুল ও ফারুক ভাই ব্যর্থ হয়েছেন বলেই আমার মনে হয়।’ সাকিবের মতে, নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের ভুল সিদ্ধান্তের কারণেই সাবেক এই ক্রিকেটাররা বোর্ডে সফল হতে পারেননি।

উল্লেখ্য, গত ৬ অক্টোবর নির্বাচনের মাধ্যমে আমিনুল ইসলাম বুলবুল সভাপতি নির্বাচিত হলেও সেই নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগে গত মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) পর্ষদটি ভেঙে দেওয়া হয়। বর্তমান অ্যাডহক কমিটিকে আগামী তিন মাসের মধ্যে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের দায়িত্ব দিয়েছে এনএসসি। বর্তমানে ক্রিকেটারদের মূল মনোযোগ মাঠের খেলায় ফেরানো এবং ঘরোয়া ক্রিকেটের নিয়মিত আসরগুলো শুরু করার ওপরই গুরুত্ব দিচ্ছেন সাকিব।