ইসরায়েলে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র বিক্রি বন্ধ এবং ইরান যুদ্ধের প্রতিবাদে নিউ ইয়র্কের ম্যানহাটনে বিক্ষোভ চলাকালে অন্তত ৯০ জন বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার (১৩ এপ্রিল) ম্যানহাটনে যান চলাচল বন্ধ করে এই বিক্ষোভ শুরু হলে পুলিশ তাদের হেফাজতে নেয়।
‘জিউইশ ভয়েস ফর পিস’ নামক সংগঠনের নেতৃত্বাধীন এই বিক্ষোভে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক মার্কিন গোয়েন্দা বিশ্লেষক ও হুইসেলব্লোয়ার চেলসি ম্যানিং, জনপ্রিয় অভিনেত্রী হারি নেফ এবং নিউ ইয়র্ক সিটি কাউন্সিলের সদস্য আলেকসা অ্যাভিলেস। বিক্ষোভকারীরা সিনেটর চাক শুমার এবং কার্স্টেন গিলিব্র্যান্ডের অফিসের সামনে অবস্থান নিয়ে লেবাননে ইসরায়েলি হামলা এবং ইরান যুদ্ধে মার্কিন মদত বন্ধের জোরালো দাবি জানান।
বিক্ষোভকারীরা ম্যানহাটনে সিনেট ডেমোক্রেটিক নেতা চাক শুমারের অফিসের ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করলে নিরাপত্তা কর্মীরা তাদের বাধা দেন। এরপর শত শত মানুষ রাস্তার ওপর বসে পড়ে ‘বোমায় নয়, মানুষের কল্যাণে অর্থ ব্যয় করো’ বলে স্লোগান দিতে থাকেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ তাদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে এবং শেষে তিন শতাধিক বিক্ষোভকারীর মধ্য থেকে প্রায় ১০০ বা তার অধিক জনকে আটক করে বাসে করে নিয়ে যায়। এই ঘটনার ছবি ও ভিডিও ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে মার্কিন রাজনীতিকদের ইসরায়েল তোষণ নীতির বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের তীব্র ক্ষোভ ফুটে উঠেছে।
অন্যদিকে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার হরমোজ প্রণালিতে নৌ-চলাচল স্বাভাবিক রাখতে একটি আন্তর্জাতিক জোট গঠনের জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন। তিনি ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সাথে এ সপ্তাহে একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনের ডাক দিয়েছেন।
স্টারমার পার্লামেন্টে জানিয়েছেন, যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর হরমোজ প্রণালি যাতে স্থায়ীভাবে উন্মুক্ত থাকে এবং বাণিজ্যিক জাহাজগুলো নিরাপদে যাতায়াত করতে পারে, তা নিশ্চিত করতে সামরিক ও কূটনৈতিক চাপ প্রয়োগ করা হবে। তবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমালোচনার মুখে থাকা স্টারমারের জন্য এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এদিকে যুদ্ধ ও নৌ-অবরোধের প্রবাদে ব্রিটেনে জীবনযাত্রার ব্যয় হু হু করে বাড়ছে এবং প্রতিটি পরিবার গড়ে প্রায় ৪৮০ পাউন্ড আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে বলে একটি গবেষণা সংস্থা জানিয়েছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ব্যাল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ায় বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। মার্কিন জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইট সতর্ক করেছেন, হরমোজ প্রণালি দিয়ে স্বাভাবিক নৌ-চলাচল শুরু না হওয়া পর্যন্ত তেলের দাম আরও বাড়তে পারে।
এদিকে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলায় একটি সরকারি হাসপাতাল মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং সেখানে বেশ কিছু হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। মেলবোর্ন থেকে গাজা অভিমুখে একটি বিশাল ত্রাণবাহী বহর বা ফ্লোটিলা রওনা হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে, যার লক্ষ্য হলো ইসরায়েলি অবরোধ ভেঙে ফিলিস্তিনিদের কাছে খাদ্য ও ওষুধ পৌঁছে দেওয়া। সব মিলিয়ে ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে বিশ্বজুড়ে এখন চরম অশান্তি ও অস্থিরতা বিরাজ করছে।
সূত্র: আল জাজিরা