ইত্তেফাকে সংবাদ প্রকাশ

খাগড়াছড়িতে পাহাড় সাবাড়ের সত্যতা মিলেছে

খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি উপজেলায় পাহাড় কাটা সংক্রান্ত অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে গঠিত তদন্ত।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) কমিটির আহ্বায়ক চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) মো. মোতাহার হোসেনের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পাহাড় কাটার স্থান সরেজমিনে পরিদর্শন করেন।

তারা উপজেলার খাড়িছড়া, এয়াতলংপাড়া, মরাডলু, লেমুয়া, তিনটহরী ও বড়ডলু এলাকায় মাটি খেকোদের স্কেভেটর ব্যবহার করে কাটা পাহাড়গুলো দেখেন। সরেজমিনে পরিদর্শন শেষে তদন্ত কমিটির সদস্য সচিব চট্টগ্রাম পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক মো. জমির হোসেন বলেন, ‘ইত্তেফাকে প্রকাশিত পাহাড় কাটার রিপোর্টের সত্যতা পেয়েছি। যে কারণেই পাহাড়গুলো কাটা হয়েছে এটা দণ্ডনীয় অপরাধ। এ অপরাধের সাথে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।’

তিনি আরও বলেন, এরই মধ্যে উপজেলা প্রশাসন পাহাড় কাটার বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে জেল-জরিমানা করেছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের উদ্যোগে একাধিক মামলা দায়ের হয়েছে। যেসব পাহাড় কাটা হয়েছে এগুলো আর ফিরিয়ে আনা যাবে না। তবে এখন থেকে আর একটি পাহাড়ও যাতে কেউ কাটতে না পারে  তা কঠোরভাবে দেখা হবে।’ পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক জানান, সাত কর্ম দিবসের মধ্যেই তারা তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেবেন। প্রতিবেদনে তারা গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত জরুরি সভায় পাহাড় কাটা রোধে  মাঠ পর্যায়ের বিভিন্ন কর্মকর্তার প্রস্তাবগুলো সংযুক্তসহ উপজেলা পর্যায়ে পাহাড় কাটা প্রতিরোধ কমিটি গঠনের সুপারিশ করবেন। 

প্রসঙ্গত গত সোমবার ইত্তেফাকের অনলাইন সংস্করণ ও বুধবার ইত্তেফাকের শেষে পাতায় ‘খাগড়াছড়িতে তিন মাসে আট পাহাড় বিলীন!’ শিরোনামে প্রকাশিত রির্পোট প্রধানমন্ত্রীর নজরে এলে তিনি পাহাড়খেকোদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলামকে নির্দেশ দেন। এরই প্রেক্ষিতে গত ৯ এপ্রিল প্রতিমন্ত্রী চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার, পরিবেশ অধিদপ্তরর পরিচালক,  খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ বিভিন্ন কর্মকর্তাদের সঙ্গে ভার্চুয়ালি জরুরি সভা করেন। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ঐদিনই চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার(সার্বিক)কে আহ্বায়ক ও চট্টগ্রাম পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক মো. জমির হোসেনকে সদস্য করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।