লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলায় দুই শিশুসহ নিহত ৫

ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের শান্তি আলোচনার মাঝেও লেবাননে হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েল। দেশটি লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে বিমান হামলায় চালিয়েছে। এসময় দুই শিশুসহ পাঁচজন নিহত হয়েছেন। 

বুধবার (১৫ এপ্রিল) এপি নিউজের এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।   

এদিকে যুদ্ধবিরতির আলোচনা চললেও লেবাননে স্থল অভিযান আরও জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী। জবাবে সীমান্তে হিজবুল্লাহর পাল্টা হামলায় বেশ কয়েকজন ইসরায়েলি সেনা আহত হয়েছে। এমতাবস্থায় ওয়াশিংটনের চাপে লেবাননে এক সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির বিষয়ে বিবেচনা করছে তেল আবিব।

পাঁচ সপ্তাহের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই সপ্তাহের অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে সম্মত হয় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। চুক্তিতে লেবাননের কথা থাকলেও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সেটি প্রত্যাখ্যান করেন। একইসঙ্গে হুঙ্কার দিয়ে বলেন, হামলা চলবে।

এদিকে লেবাননের রাজধানী বৈরুত-এ বারবার হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েল বাহিনী। এই হামলায় ২,০০০-এর বেশি মানুষ নিহত এবং ১০ লক্ষেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। পাল্টা জবাব দিচ্ছে হিজবুল্লাহও।
 
লেবাননে ইসরায়েলের আক্রমণ বন্ধ করতে আন্তর্জাতিকভাবে তীব্র চাপ তৈরি হয়েছে। ফলে মঙ্গলবার ওয়াশিংটন ডিসিতে লেবাননের সঙ্গে আলোচনায় বসে ইসরাইল। আলোচনায় যুদ্ধবিরতির কথা উঠলে তা নাকচ করে দেয় ইসরাইলি প্রতিনিধিদল। তবে শান্তি ফেরাতে নিজেদের মধ্যে সরাসরি আলোচনা চালিয়ে যেতে সম্মত হয় উভয় পক্ষ।
 
এর আগে, গতকাল লেবাননের দক্ষিণ প্রান্তের সিডন জেলার আনসারিয়াহ শহরে ভয়াবহ বিমান হামলা চালায় ইসরায়েল বাহিনী। 

এ বিষয়ে লেবাননের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এনএনএ জানায়, এই হামলায় শিশুসহ কয়েকজন বেসামরিক নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন। বৈরুত ও এর আশপাশের এলাকায় ইসরাইলের অব্যাহত এই আগ্রাসনে বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। এতে ওই অঞ্চলে মানবিক সংকট আরও ঘনিভূত হয়েছে।
 
যুদ্ধবিরতির আলোচনার মধ্যেই লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে স্থল অভিযান আরও বিস্তৃত করার ঘোষণা দেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু। একইসঙ্গে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ জাবেইল শহর দখলের খুব কাছাকাছি রয়েছে তার সেনাবাহিনী বলে দাবি করেন নেতানিয়াহু। 

এদিকে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ সামলাতে এবং ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নেতানিয়াহু শক্তিমত্তা প্রদর্শনের এই পথ বেছে নিয়েছেন বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
 
এদিকে ইসরায়েলি হামলার মুখে কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তুলছে হিজবুল্লাহ। গত কয়েক ঘণ্টায় কিরিয়াত শহরে রকেট হামলা এবং জাবেইলে ইসরাইলি বুলডোজার ও ট্যাংকে হামলা চালানোর দাবি করেছে গোষ্ঠীটি।