কৃষক কার্ড পেয়ে ভাইরাল হওয়া কবির হোসেন সত্যিই কৃষক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত থেকে টাঙ্গাইলের কবির হোসেন কৃষক কার্ড গ্রহণ করেন। এ সংবাদ প্রচারের পর পরই অনেকে তার কিছু ছবি প্রচার করে তাকে বিত্তশালী এবং কৃষক নন বলে দাবি করেছেন। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা চলতে থাকে। একইসঙ্গে তার এআই জেনারেটেড কিছু ছবিও ছড়িয়ে পড়ে সোশ্যাল মিডিয়ায়।

এমনকি কবির প্রকৃত কৃষক ‘না’ বলে অভিযোগ তোলা হলেও স্থানীয়রা বলছেন, নিজের জমি না থাকলেও অন্যের জমি বর্গা নিয়ে চাষ করেন কবির। তার সেচ পাম্পও রয়েছে। আর কৃষি বিভাগ বলছে, প্রকৃত কৃষকদের দেওয়া হয়েছে কার্ড।

এর আগে, মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) টাঙ্গাইল শহীদ মারুফ স্টেডিয়াম থেকে সারাদেশে ডিজিটাল কৃষক কার্ডের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। টাঙ্গাইল সদর উপজেলার সুরুজ ব্লকের অধীন ১৪৫৩ জনকে কৃষক কার্ড দেওয়া হয়।

এ সময় ১৫ কৃষকের হাতে তুলে দেন কৃষক কার্ড প্রধানমন্ত্রী। আর এই তালিকায় থাকা কবির হোসেনের ছবি ঘিরেই নেট দুনিয়ায় শুরু হয়েছে তোলপাড়।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সরেজমিনে দেখা যায়, নিজের সেচ পাম্প থেকে পানি দিয়ে বর্গা নেওয়া জমিতে পরম মমতায় কাজ করছেন কবির হোসেন। কখনও হাতে কাঁচি নিয়ে নিড়াচ্ছেন ঘাস, কখনও বা মনের সুখে গান গেয়ে মাতিয়ে রাখছেন ফসলের মাঠ।

জানা যায়, টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ঘারিন্দা ইউনিয়নের উত্তর তারুটিয়া গ্রামের বাসিন্দা কবির হোসেন। তিনি কৃষিকাজের পাশাপাশি কৃষকদের জীবন ও বিচিত্রা নিয়ে কন্টেন্ট তৈরি করে ফেসবুকে আপলোড করেন।

এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কৃষক কবির হোসেনের কৃষক কার্ডের ছবি ও এআই দিয়ে বানানো ছবি পোস্ট করে দাবি করা হয় তিনি প্রকৃত কৃষক নন।

বিতর্ক শুরু হওয়ার পর বিষয়টি খতিয়ে দেখতে কবির হোসেনের বাড়িতে ছোটেন কৃষি বিভাগ ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা। স্থানীয় কৃষক ও এলাকাবাসীর তথ্যে তারা কবিরের কৃষিনির্ভর জীবনের সত্যতা পেয়েছেন।

স্থানীয়রা জানান, কবির হোসেনরা দুই ভাই ও দুই বোন। তাদের মধ্যে তিনিই সবার বড়। কবির হোসেনের বাবা কৃষকের কাজ করে ৪ জন সন্তানকে লালন পালন করেছেন। কৃষকের সন্তান কখনো কৃষক হবে না, এটা কীভাবে হয়। এছাড়া কবির হোসেনের তেমন পড়াশোনা নেই। তাহলে একজন অশিক্ষিত লোক যার কোন চাকরি করার ক্ষমতা নেই। সে কি করে সংসার চালাবে!

তারা আরও জানান, কবির হোসেনের সংসারে রয়েছে স্ত্রীসহ এক ছেলে এক মেয়ে। কৃষি কাজ করেই মেয়েটিকে বিয়ে দিয়েছে। ছেলেটিকে এসএসসি পাশ করিয়ে এক বছর যাবৎ দেশের বাহিরে পাঠিয়েছে।

কবির হোসেনের শ্যালক মো. হাসান তালুকদার জানান, বহু বছর আগে বিদেশে পাড়ি জমান তিনি। সেখানে সুবিধা করতে না পেরে দেশে এসে কৃষি নির্ভর হয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন।

স্থানীয় কৃষক হাকিম তালুকদার জানান, গ্রাম অঞ্চলের মধ্যে কবির হোসেনের পরিবার পুরাতন গেরস্ত। তার বাপ দাদার আমলে একসময় ভালো অবস্থান ছিল। এখন সেই সম্পত্তি ভাগ বাটোয়ারা হওয়ায় জমির পরিমাণ কমে গেছে।

এ বিষয়ে কৃষক কবির হোসেন জানান, ‘এক সময় তার বাপ-দাদার জমি জমা থাকলেও বর্তমানে তাদের খুব একটা জমি নেই। তবে নিজের জমি না থাকলেও অন্যের জমি বর্গা নিয়ে নিয়মিত চাষ করেন এবং একটি সেচ পাম্প রয়েছে তার। এছাড়া গরু-ছাগল, হাঁস-মুরগি লালন পালন করে পরিবার পরিজন নিয়ে নিজ বাড়িতে বসবাস করেন।’

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর মহাপরিচালক আব্দুর রহিম বলেন, প্রকৃত বিষয়টি উদঘাটনের জন্য আমরা সরেজমিনে পরিদর্শন করেছি এবং সেখানে কবির হোসেনকে একজন প্রকৃত কৃষক হিসাবে পেয়েছি। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সঠিক নয়।

এ বিষয়ে টাঙ্গাইলের সিনিয়র তথ্য অফিসার তাহমিনা জান্নাত জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত থেকে কবির হোসেন কৃষক কার্ড নেওয়ায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব ছড়ানো হয়েছে। আমরা সরেজমিনে দেখতে যাই উনি আসলে প্রকৃত কৃষক কিনা। তথ্য যাচাই বাছাইয়ে দেখা যায়, কবির হোসেন একজন প্রান্তিক পযার্য়ের কৃষক।