যশোরে জিয়াউর রহমানের হাতে গড়া তুলা খামারে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের দাবি

যশোরের চৌগাছা উপজেলায় জিয়াউর রহমানের হাতে গড়া দেশের বৃহৎ তুলা উন্নয়ন গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও বীজ বর্ধন খামারে পূর্ণাঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এই দাবি দীর্ঘদিনের পুরনো হলেও মূলত সোমবার (২৭ এপ্রিল) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের  যশোর সফর ঘিরে স্থানীয়দের এই দাবি জোরালো আলোচনায় এসেছে।

স্থানীয়রা জানান, চৌগাছার জগদীশপুরে অবস্থিত খামারটি তুলা উৎপাদনে একসময় ছিল সম্ভাবনার প্রতীক। তবে বর্তমানে জনবল সংকট, অব্যবস্থাপনা ও দীর্ঘদিনের অবহেলায় খামারটির কার্যক্রম অনেকটাই স্থবির হয়ে পড়েছে। বিশাল এই খামারের অব্যবহৃত জায়গা কাজে লাগিয়ে এখানে একটি পূর্ণাঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা সম্ভব বলে স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদও গত মঙ্গলবার সংসদে দাবি করেছেন। এরপর প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে জিয়াউর রহমানের হাতে গড়া তুলা খামারে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের দাবি জোর আলোচনায় আসে।

চলতি সংসদ অধিবেশনে পূর্ণাঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের দাবি তুলে বক্তৃতা করেন ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ। তিনি খামারটির বর্তমান অবস্থা তুলে ধরে বলেন, এখানে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করলে অব্যবহৃত সম্পদ কাজে লাগানো সম্ভব হবে এবং দেশের কৃষি শিক্ষায় নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮০ সালের ১৯ নভেম্বর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানর খামারটির উদ্বোধন করেন। বাংলাদেশ সরকার ও তৎকালীন ইউরোপীয় অর্থনৈতিক সম্প্রদায়ের (ইইসি) আর্থিক সহায়তায় প্রতিষ্ঠিত এই খামারটির মোট আয়তন ৪৭৮ বিঘা বা ৬৩ দশমিক ৭০ হেক্টর (প্রায় ১৫৭ একর)। এর মধ্যে গবেষণা, বীজ উৎপাদন, বিভিন্ন ফসল চাষ, বাগান, পুকুর, রাস্তা ও অবকাঠামোসহ নানা কাজে জমি ব্যবহার করা হলেও প্রায় ১৪ দশমিক ৭২ হেক্টর জমি বর্তমানে অব্যবহৃত পড়ে রয়েছে।

খামারটিতে প্রজনন, কৃষিতত্ত্ব, কীটতত্ত্ব, মৃত্তিকা ও রোগতত্ত্ব এই পাঁচটি ডিসিপ্লিনের আওতায় গবেষণা কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে থাকে। পাশাপাশি রয়েছে আবাসিক সুবিধাসহ প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, যেখানে একসঙ্গে প্রায় ১২০ জনকে থাকা-খাওয়া ও প্রশিক্ষণ দেওয়া সম্ভব। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই বিদ্যমান অবকাঠামো ব্যবহার করেই সহজেই একটি পূর্ণাঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলা সম্ভব।

খামারের পাশেই অবস্থিত চৌগাছার ‘মর্জাদ বাওড়’। যেখানে রয়েছে কয়েক হাজার বিঘা জমি। যা হতে পারে  মৎস্য ও অন্যান্য গবেষণার জন্য গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাবনা। এছাড়া খামারের পতিত জমিতে গবাদি পশু ও হাঁস-মুরগি বিষয়ক গবেষণাও চালানো যেতে পারে বলে মত সংশ্লিষ্টদের। প্রাকৃতিক দুর্যোগ তুলনামূলক কম হওয়ায় কৃষি গবেষণা ও শিক্ষার জন্য এটি একটি আদর্শ স্থান হিসেবে গণ্য করা যেতে পারে।

খামারের ব্যবস্থাপক কর্টন এগ্রোনোমিস্ট যোবায়ের ইসলাম তালকদার বলেন, এখানে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের উদ্যোগ হবে সময় উপযোগী।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোসাব্বিন হুসাইনও একই মত পোষণ করে জানান, যশোর অঞ্চলের মাটি সব ধরনের ফসল উৎপাদনের উপযোগী হওয়ায় এখানে কৃষি শিক্ষা ও গবেষণার বিস্তর সম্ভাবনা রয়েছে।

এ ব্যাপারে জিসিবি আদর্শ কলেজের অধ্যক্ষ আবু জাফর বলেন, আগামীকাল সোমবার প্রধানমন্ত্রীর তারেক জিয়া যশোরে আসছেন। অবহেলিত যশোরবাসীর অনেক চাওয়া পাওয়ার মধ্যে দক্ষিণ অঞ্চলে একটি পূর্ণাঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এখন প্রাণের দাবি ।