আমাকে হত্যা করতে পেশাদার কিলার নেওয়া হয়েছিল: সংসদে জামায়াত এমপি

নেত্রকোনা-৫ আসনের জামায়াত ইসলামের সংসদ সদস্য মাছুম মোস্তফা তার ওপর হামলার ঘটনা জাতীয় সংসদে তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে নিরাপত্তা দাবি করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমাকে হত্যা করতে পেশাদার কিলার নেওয়া হয়েছিল। আমি আমার, আমার পরিবার ও আমার এলাকার সংগঠনের কর্মীদের নিরাপত্তা চাই।’

রোববার (২৬ এপ্রিল) বিকেলে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে তিনি এসব কথা জানান।

সংসদে মাছুম মোস্তফা বলেন, ‘গত ২৪ তারিখ শুক্রবার আমি আমার নির্বাচনী এলাকা ১৬১, নেত্রকোনা-৫ এ সাংগঠনিক ও সামাজিক কাজে যাই। কাজ শেষ করে ফেরার সময় আমি একটি ফিলিং স্টেশনে প্রচুর গাড়ির ভিড় দেখতে পাই। তখন আমি স্বাভাবিকভাবে সেখানে দাঁড়াই। ফিলিং স্টেশনে আমার গাড়ি রেখে আমি মানুষের খোঁজখবর নিই। ইতোমধ্যে মাগরিবের আজান হয়ে যায়। আমি ফিলিং স্টেশনের নামাজের জায়গায় নামাজ পড়তে যাই, আমার লোকজনসহ।’

তিনি বলেন, ‘এই মুহূর্তে বিএনপির কিছু লোক, যারা বিএনপির নাম ধারণ করেছে- তারা আমার গাড়ির উপর হামলা চালায়। আমার লোকজন যারা সাউন্ড শুনে আসে, তাদের উপর হামলা করে, শারীরিকভাবে নির্যাতন করে। এবং আমি যে মসজিদে ছিলাম, সেই মসজিদে গিয়ে আমাকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করে। মুসল্লিরা মসজিদের দরজা বন্ধ করে দেন। সেই মসজিদের দরজা ভাঙার জন্য বিভিন্ন অস্ত্র দিয়ে তারা দরজার উপর আঘাত করে এবং আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে, আমাকে মারার জন্য হুমকি দেয়। তারা আমাকে মেরে ফেলার জন্য চেষ্টা করে।’

সংসদ সদস্য মাছুম মোস্তফা বলেন, ‘সেখানে পেশাদার কিলার নেওয়া হয়েছিল, যাতে আমাকে হত্যা করা হয়। কিন্তু মসজিদের মুসল্লিদের প্রতিরোধের মুখে তারা দরজা ভাঙতে পারে নাই। তাই আজকে মাননীয় স্পিকার, আপনার সামনে দাঁড়ানোর সুযোগ হয়েছে। না হলে হয়তো আজকে আমার জন্য শোক প্রস্তাব আনতে হতো এবং আমার জন্য হয়তো আপনারা এক মিনিট নীরবতা পালন করতেন।’

নিরাপত্তা চেয়ে তিনি বলেন, ‘মাননীয় স্পিকার, আমি আপনার কাছে আমার নিরাপত্তা চাই, আমার পরিবারের নিরাপত্তা চাই। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহোদয়ের কাছে আমি আমার এলাকার সংগঠনের কর্মীদের নিরাপত্তা চাই। মাননীয় স্পিকার, এইভাবে আমাকে জনগণ জিজ্ঞেস করেছে-কি অপরাধে আপনার উপর হামলা করা হলো? আমি অপরাধটা বলতে পারি নাই।’

এর আগে গত ২৪ এপ্রিল নেত্রকোনা-৫ (পূর্বধলা) আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা মাছুম মোস্তফাকে অবরুদ্ধ করা হয় এবং তার গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। এ ঘটনায় স্থানীয় বিএনপির ১২০ জন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত ৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।