পঞ্চগড়ে ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগে প্রধান শিক্ষক ৫ ঘণ্টা অবরুদ্ধ

পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় এক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগে প্রধান শিক্ষক হবিবর রহমানকে অবরুদ্ধ করে রাখে বিক্ষুব্ধ জনতা। প্রায় পাঁচ ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর পুলিশ তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

রোববার (২৬ এপ্রিল) সকালে উপজেলার বেংহারী সরকারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে এক শিশু শিক্ষার্থীর সঙ্গে শ্লীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগ ওঠে প্রধান শিক্ষক হবিবর রহমানের বিরুদ্ধে। বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে অভিভাবক ও স্থানীয়রা বিদ্যালয় ঘেরাও করে তাকে ভেতরে আটকে রাখেন।

খবর পেয়ে বোদা থানা পুলিশ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে যান। তারা ভুক্তভোগী পরিবারের বক্তব্য শোনার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে অভিযুক্ত শিক্ষককে উদ্ধার করে আটক করা হয়।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

বোদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানা জানান, ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত পাওয়া যায়। অভিযুক্ত শিক্ষক আত্মরক্ষার্থে টেবিলের নিচে আশ্রয় নিয়েছিলেন। পরে তাকে নিরাপদে উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হয় এবং তার বিরুদ্ধে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। অভিযুক্ত শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করা হবে। পাশাপাশি স্থানীয়দের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বিদ্যালয়ের আরও কয়েকজন শিক্ষককে বদলির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে এবং ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা চলমান রয়েছে।