ঝাড়ফুঁকের নামে এক মাদ্রাসাছাত্রীকে যৌন-নির্যাতন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বুধবার সকালে নারায়ণগঞ্জ থেকে মসজিদের ইমামসহ ছয় জনকে গ্রেফতার করেছে র্যাব।
গ্রেফতাররা হলেন- মসজিদের ইমাম ফজলুর রহমান (৪৫), তার সহযোগী মো. রমজান আলী, মো. গিয়াস উদ্দিন, হাবিব এ এলাহি ওরফে হবি, মো. মোতাহার হোসেন এবং মো. শরিফ হোসেন। এদের চাষাড়া চাঁনমারীস্থ এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।
সিদ্ধিরগঞ্জের আদমজীতে অবস্থিত র্যাব-১১ এর প্রধান কার্যালয়ের মিডিয়া কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আলেপ উদ্দিন সংবাদমাধ্যমকে এ তথ্য জানান।
র্যাব জানায়, গত মঙ্গলবার রাতে এক ব্যক্তি র্যাব-১১ অফিসে এসে অভিযোগ দেন যে, তার মেয়ে বর্তমানে নারায়ণগঞ্জের ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে। তাকে মসজিদের ইমাম কর্তৃক ধর্ষণ করা হয়েছে। ধর্ষণের পর ইমামের অনুসারীরা মেয়েকে ও তাকে মেরে ফেলার জন্য হাসপাতালে গিয়ে খুঁজছে। ঘটনা শুনার পর তাৎক্ষণিকভাবে র্যাবের একটি দল ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতালে ছুটে যায়। ভিকটিম ও তার পরিবারের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার সত্যতা পেয়ে হাসপাতালে তাদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়।
গ্রেফতারকৃত ফজলুর রহমানকে জিজ্ঞাসাবাদ ও প্রাথমিক অনুসন্ধানে র্যাব জানতে পারে, শিশুটি রাতে দুঃস্বপ্ন দেখে কান্নাকাটি করত। বিভিন্ন প্রকার কবিরাজি চিকিৎসা করে ভালো না হওয়ায় ভিকটিমের বাবা জানতে পারে, অভিযুক্ত ফজলুর রহমান ঝাড়ফুঁক ও পানিপরা দেন। এরপর মেয়েকে দুই থেকে তিনবার ফজলুর রহমানের কাছে ঝাড়ফুঁক করিয়ে নেন।
আরো পড়ুন: প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যর্থ মেয়রকে স্কার্ট পরিয়ে ঘোরানো হলো শহর
র্যাব আরো জানায়, নির্যাতনের ঘটনার আগের দিন ফোনে মেয়ের বাবাকে ফজলুর রহমান বলেন, ফজরের আজানের সাথে সাথে মসজিদে আসতে। কথা অনুযায়ী পরের দিন সকালে মেয়েকে নিয়ে মসজিদে যান। নামাজের পর শিশুটিকে নিয়ে তার বাবা মসজিদের ৩য় তলায় ইমামের রুমে যান। এরপর ঝাড়ফুঁক করে পরিকল্পিতভাবে ভিকটিমের বাবাকে ভোর ৫টার দিকে এক প্যাকেট আগরবাতি ও মোমবাতি আনার জন্য বাইরে পাঠিয়ে দেন। ঐ সময় দোকানপাট খোলা না থাকায় শিশুটির বাবা কোনোভাবেই মোমবাতি ও আগরবাতি কিনতে পারছিলেন না।
এরই মাঝে শিশুটির দুই হাত পিছনে বেঁধে ও মুখে টেপ মেরে নির্যাতন করেন ফজলুর রহমান। এরপরে শিশুটির গলায় ছুরি ধরে তার বাবা-মাকে না বলার জন্য হুমকি দেন। শিশুটি অসুস্থ হয়ে গেলে তাড়াহুড়া করে তার বাবাকে বুঝিয়ে বিদায় করে দেন ফজলুর রহমান। অবস্থা আরো খারাপ হলে শিশুটিকে নিয়ে নারায়ণগঞ্জের ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
ইত্তেফাক/জেডএইচ