বৈশাখী ঝড়ে কুমিল্লা জেলার ১৭টি উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে বৈদ্যুতিক সংযোগ ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরপর দুদিনের ঝড়ে অন্তত ৩৫টি ট্রান্সফরমার বিকল হয়ে পড়ার খবর পাওয়া গেছে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে দক্ষিণাঞ্চলের উপজেলাগুলো। ঝড়ো বাতাসে খুঁটি উপড়ে, ট্রান্সফরমার ও মিটার নষ্ট হয়ে গ্রাহকদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকতে হচ্ছে।
কালবৈশাখী ঝড়ে কুমিল্লার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর ৬ উপজেলায় বিদ্যুৎ সংযোগের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। গত দুই দিনে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর অধীনে আদর্শ সদর, সদর দক্ষিণ, লালমাই, চৌদ্দগ্রাম, বুড়িচং ও ব্রাহ্মণপাড়ায় মোট ৭১ টি খুঁটি ভেঙ্গেছে। ১০২৫টি স্পটে বৈদ্যুতিক সংযোগের উপরে গাছ পড়েছে। ৫৫০টি মিটার ভেঙেছে এবং ৭৩৮ টি স্পটে তার ছিঁড়েছে। ছয় উপজেলায় ৩৫ টি মিটার নষ্ট হয়ে যাওয়ায় সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে ২৭ হাজার গ্রাহকের।
মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার দিলীপ চন্দ্র চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গত ২৬ এপ্রিল এরপর আমরা সব সংযোগ চালু করেছিলাম। কিন্তু ২৮ তারিখের ঝড়ে আবারও এসব সংযোগ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে বন্ধ হয়েছে। আমরা সেগুলো পুনরুদ্ধারে দিন রাত কাজ করছি।
বরুড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান রনি জানান, ভবানীপুর ও এগারোগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকায় গাছ ভেঙে পড়ে। যা অপসারণে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অনেক ইউনিয়ন এখনও বিদ্যুৎহীন রয়েছে, তবে দ্রুত সংযোগ পুনঃস্থাপনে কাজ চলছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কুমিল্লার চারটি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মোট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে আরও সময় লাগবে। একই সঙ্গে ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর জানিয়েছে, অন্যান্য ক্ষয়ক্ষতির তথ্যও এখনও পুরোপুরি সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে টানা ঝড়-বৃষ্টির ফলে জেলার ১৭টি উপজেলার কৃষি ও বিদ্যুতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলার ১৭ উপজেলার মোট ১ হাজার ৭৩৩ হেক্টর ফসলের ক্ষতি হয়েছে। তার মধ্যে ভুট্টা ৫৫০ হেক্টর, গ্রীষ্মকালীন সবজি ৩৬৪ হেক্টর এবং ৯১ হেক্টর তিলের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। জেলাজুড়ে ১ লাখ ৭২ হাজার ২১৫ হেক্টর জমিতে বুরো ধান চাষাবাদ হলেও তারমধ্যে ২৩ শতাংশ ধান কাটা হয়েছে। বেশিরভাগ ধান পেকে যাওয়ায় চলমান কালবৈশাখী ঝড়ে ধানে তেমন ক্ষতি দেখছে না কৃষি অফিস।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কুমিল্লার উপপরিচালক মো. মিজানুর রহমান বলেন, বৃষ্টিতে ধানের তেমন সমস্যা হওয়ার কথা নয়। তবে বৃষ্টির পানি যদি বেশ কিছুদিন আটকে থাকে তাহলে পঁচে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আমরা আশা করছি এই ঝড়বৃষ্টি বেশিদিন থাকবে না। কৃষকদের সবসময় আমরা অনুরোধ করি ধান যদি ৮০ ভাগ পেকে যায় তাহলে কেটে ফেলার জন্য। কিন্তু কৃষকরা শতভাগ পাকার জন্য অপেক্ষা করেন আর প্রতিবছর ঝড়বৃষ্টির মুখে পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হন।
কুমিল্লা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সৈয়দ আরিফুর রহমান বলেন, মঙ্গলবারের তুলনায় আজ (বুধবার) বৃষ্টিপাত কম। গতকাল বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২-৬৫ কিলোমিটার ছিল। আজ সেটি উল্লেখযোগ্য নয়। তবে পূর্বাভাস যেহেতু থাকছে তাই ঝড়বৃষ্টিতে খুব জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের না হলেই ভালো হয়। ইতোমধ্যেই সারাদেশে বজ্রপাতে অনেক মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।