কিশোরগঞ্জে নদ-নদীর পানি বেড়ে তলিয়ে গেছে ৬ হাজার হেক্টর জমির ধান

টানা চার দিনের ভারী বৃষ্টিতে কিশোরগঞ্জ জেলায় প্রায় সাড়ে ৬ হাজার হেক্টর বোরোধানের জমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে হাওরাঞ্চলের কৃষকরা।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বিকেলে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (খামারবাড়ি) এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, টানা বৃষ্টিতে হাওরাঞ্চলের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে প্রায় সাড়ে ৬ হাজার হেক্টর জমি পানির নিচে চলে গেছে। এর মধ্যে শুধু ইটনা উপজেলাতেই প্রায় ২ হাজার ৬০০ হেক্টর জমির ধান পানিতে ডুবে গেছে। টানা বৃষ্টির কারণে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় ধান কাটতে গিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন কৃষকরা।

নিকলী আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ৬১.১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যদিও এর আগের দিন ছিল ১৬০ মিলিমিটার। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে কিছুটা রোদ উঠায় পরিস্থিতিতে সাময়িক স্বস্তি ফিরেছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, সবকটি নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বিভিন্ন পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ১১৪ থেকে ৩৯৩ সেন্টিমিটার নিচে রয়েছে।

1,500 hectares of paddy land submerged in Kishoreganj due to continuous heavy rains

তবে টানা বৃষ্টিপাত ও উজানের পানির চাপ অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি আরও অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে হাওরাঞ্চলের বোরোধানের ক্ষতি আরও বাড়তে পারে।

কিশোরগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ‘করিমগঞ্জের চামড়াঘাট এলাকার মগড়া নদীর পানি গতকাল ৬৩ সেন্টিমিটার বাড়লেও আজ ২ সেন্টিমিটার কমেছে। ইটনার ধনু-বৌলাই নদীতে গতকাল ৪৯ সেন্টিমিটার পানি বাড়লেও আজ বেড়েছে ১৪ সেন্টিমিটার। অষ্টগ্রামের কালনী নদীতে গতকাল ৬৯ সেন্টিমিটার বাড়লেও আজ বেড়েছে মাত্র ১ সেন্টিমিটার। ভৈরবের মেঘনা নদীর পানিও কমতে শুরু করেছে।’

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. সাদিকুর রহমান বলেন, ‘বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত মাঠপর্যায়ের তথ্যে সাড়ে ৬ হাজার হেক্টর জমি পানির নিচে রয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে ইটনা উপজেলায়।’

এদিকে অতিবৃষ্টির কারণে জেলার বিভিন্ন এলাকায় সবজি ক্ষেতেও ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।