মিরসরাইতে কালবৈশাখীর তাণ্ডব, একদিন ধরে বিদ্যুৎহীন শত শত গ্রাহক

চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলায় হঠাৎ কালবৈশাখীর তাণ্ডবে বিভিন্ন এলাকার বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে পড়েছে। এতে এসব এলাকার শত শত গ্রাহক বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন।

সর্বশেষ রোববার (৩ মে) বিকেল ৫টার দিক এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত অন্তত ৫০০ গ্রাহকের বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছেন। এর আগে শনিবার দুপুরে দিকে কালবৈশাখী ঝড়ে অন্তত ২০ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়ে।

পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঝড়ে বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে, তারের ওপর গাছ উপড়ে পড়াসহ প্রবল বাতাসে বিভিন্ন এলাকার বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে যাওয়ার কারণে এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন এলাকার বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া সম্ভব হয়েছে। তবে রোববার দিনভর গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির কারণে লাইন ম্যানরা কাজ করতে না পারায় কিছু কিছু এলাকায় এখনও বিদ্যুৎ সংযোগ সচল করা যায়নি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শনিবার ঝড় শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে উপজেলার আবুরহাট, সোনাপাহাড়, ওচমানপুর এলাকার বিভিন্ন গ্রাম। এতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে গ্রাহকদের। বিদ্যুৎ না থাকায় বিপণী বিতান, পোল্ট্রি খামার সহ এসএসসি পরীক্ষার্থীদের ভোগান্তি চরমে উঠেছে। গাছের ডাল ভেঙে লাইনে পড়ে ২টি খুঁটি ভেঙে পড়েছে, ৭টি হেলে পড়েছে, ২টি ট্রান্সফরমার নষ্ট হয়ে গেছে। ৩০-৪০টি খুঁটির তার ও ড্রপ তার ছিঁড়ে গেছে বলে জানা গেছে।

উপজেলার জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের সোনাপাহাড় এলাকার বাসিন্দা সাখাওয়াত সাকিব বলেন, শনিবার দুপুরে থেকে গ্রামে বিদ্যুৎ নেই। রোববার বিকেল ৫টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ আসেনি। পল্লী বিদ্যুৎ অফিস থেকে জানায় কাজ চলছে। কবে নাগাদ বিদ্যুৎ আসবে তার সঠিক কোন তথ্য তারা জানাতে পারেনি।

উপজেলার বিষুমিয়ারহাট এলাকার বাসিন্দা সাইদুল ইসলাম বলেন, এমনিতে গত কয়েকদিন লোডশেডিং চলছে। তার মধ্যে আজ সারাদিন বিদ্যুৎ নেই। কখন আসে তারও ঠিক নেই।

চট্টগ্রাম পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৩ বারইয়ারহাট জোনাল অফিসের ডিজিএম হেদায়েত উল্লাহ বলেন, গাছের ডাল ভেঙে লাইনে পড়ে ২টি খুঁটি ভেঙ্গে গেছে, ৭টি হেলে পড়েছে, ২টি ট্রান্সফরমার নষ্ট হয়ে গেছে। ৩০-৪০টি খুঁটির তার ও ড্রপ তার ছিঁড়ে গেছে। বৃষ্টির কারণে কাজ করতে লাইনম্যানদের যথেষ্ট বেগ পেতে হচ্ছে। আশা করি বৃষ্টি না হলে রোববার রাতে; না হয় সোমবার সকালের মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হবে।