নেত্রকোনায় কৃষকরা কষ্টের ধান শুকাতে পারছেন না

নেত্রকোনায় গত দুদিন যাবৎ হালকা রোদ উঠলেও কৃষকরা তাদের কষ্টের ধান ভালো করে শুকাতে পারছেন না। এখনো হাওর উপজেলাগুলোতে ১০ হাজার হেক্টরের মতো বোরো ফসল পানির নিচে রয়েছে।

বৃষ্টি না হলেও পানি সরছে না। কারণ হাওরের চারদিকে ফসল রক্ষা বাঁধ থাকায় সেই পানি আটকে গেছে। একমাত্র পাম্পের সাহায্য ছাড়া এই পানি সরানো যাবে না। এদিকে যেখানে ধান শুকাতে পারা গেছে, সেখানে কিষানিরা ধান শুকিয়ে তা সিদ্ধ করে রোদে দেওয়ার চেষ্টা করছেন। এদিকে হাওরের ৫টি উপজেলা থেকে বোরো ধান গতকাল সোমবার পর্যন্ত কাটা হয়েছে ৭২ ভাগ। কারণ, পানি না সরলে এই ধানকাটা আর সম্ভব নয় । ধান একেবারে বিনষ্ট হয়ে যাবে । তাই কৃষকরা এখন দারুণ সংকটের মধ্যে রয়েছেন।

গতকাল সোমবার মদন উপজেলা উচিৎপুর হাওর এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, সেখানে হেক্টরের পর হেক্টর বোরো ফসলের জমি পানির নিচে পড়ে রয়েছে। কৃষকরা হাওর পাড়ে বসে হা-হুতাশ করছেন। হাওরপাড়ের কৃষক আসলাম মিয়া বলেন, তিন চার বছর পর পর হাওরে পানি আসে, কিন্তু এবার যে এরকম হবে তারা তা বুঝতে পারেন নাই। আর এবার তারা ধানের আবাদও দেরি করে করেছিলেন বলে জানান। কারণ, হাওরের নিচু এলাকা থেকে এবার পানি সরেছে দেরি করে। তাই হাওরপাড়ের শত শত কৃষক পরিবারের মাঝে চরম উদ্বেগ বিরাজ করছে। যতটুকু ধান পাওয়া গেছে, সেই ধানের দামও পাচ্ছেন না কৃষক ।

নেত্রকোনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আমিরুল ইসলাম জানান, যদি আর কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা বৃষ্টি না হয়—তাহলে ধীরে ধীরে হাওরের পানি সরে যাবে । তখন হয়তো কিছু ধান উদ্ধার করা যাবে। তবে হাওর এলাকায় কমপক্ষে ১০ ভাগ ফসলের ক্ষতি হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন । নেত্রকোনা জেলার ১০টি উপজেলার মধ্যে ৫টি হাওর উপজেলায় ৪১ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ করা হয়।

এখন কৃষকদের দাবি হচ্ছে, ধানের ন্যায্যমূল্য পাওয়া। তারা ধানের দাম মোটেই পাচ্ছেন না। একশ্রেণির ধান ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট করে ধান ক্রয় করছেন বলে কৃষকরা অভিযোগ করেন ।

জেলা প্রশাসক মো. খন্দকার মুশফিকুর রহমান বলেন, যারা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কৃষকদের নিকট থেকে ধান কিনবে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে গত রবিবার সন্ধ্যায় খাদ্যপ্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী এমপি নেত্রকোনায় ধান-চালের ক্রয় অভিযান উদ্বোধনকালে বলেছেন, কৃষকরা যতদিন ইচ্ছা ততদিন সরকারের নিকট ধান বিক্রয় করতে পারবেন। এব্যাপারে জেলা প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেন।