কোরবানিকে সামনে রেখে চুরির হিড়িক, একরাতে ‘হাওয়া’ ৯টি গরু

সিরাজগঞ্জের কামারখন্দে কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে চুরির ঘটনা বেড়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এরই ধারাবাহিকতায় এক রাতেই তিন খামারির নয়টি গরু চুরির অভিযোগ উঠেছে। কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে গরু চুরি হওয়ায় আতঙ্কে রয়েছেন খামারিরা। অনেকের রাত জেগে পাহারা দিচ্ছেন গোয়ালের গরু।

জানা গেছে, গত মঙ্গলবার (৫ মে) দিবাগত রাতে উপজেলার বড়কুড়া মালোপাড়া, ছোট কুড়া ও নান্দিনা কামালিয়া গ্রামে নয়টি গরু চুরির ঘটনা ঘটে।

এর মধ্যে খামারি রুহুল আমিনের চারটি, সাইফুল ইসলামের তিনটি, নান্দিনা কামালিয়া গ্রামের সুবেলের দুটি গরু চুরি হয়। 

স্থানীয়রা জানান, এর আগে গত রোববার রাতে বড়পাকুরিয়া গ্রাম থেকে একটি ব্যাটারিচালিত অটোভ্যান চুরির ঘটনা ঘটে। গত পহেলা মে রাতে নান্দিনা কামালিয়া গ্রামে মুদি ও ফ্ল্যাক্সিলোডের দোকানসহ অন্তত তিনটি দোকানে চুরির ঘটনা ঘটে।

এদিকে মঙ্গলবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে নান্দিনা কামালিয়া গ্রামের আলী আকবর ভুইয়া নামের এক কৃষকের বাড়িতে গেটের তালা ভাঙার সময় টের পেলে বাড়ির লোকজন টের পেলে দৌড়ে পালিয়ে যায় চোরেরা।

বড়কুড়া মালোপাড়া গ্রামের ভুক্তভোগী খামারি রুহুল আমিন জানান, খামারে দুইটি গাভী, একটি বকনা গরু এবং কোরবানি উপলক্ষে হৃষ্টপুষ্ট করা ষাঁড় গরু ছিলো। সন্ধ্যায় খাওয়ানো শেষে সবাই ঘুমিয়ে পড়লে ভোরে খামার খুলে দেখি একটি গরুও নেই। চারটি গরুর দাম বর্তমান বাজারে সাড়ে তিন লক্ষাধিক টাকা হবে। 

ছোটকুড়া গ্রামের ভুক্তভোগী কৃষক সাইফুল ইসলাম জানান, মঙ্গলবার রাতে গোয়ালে একটি গাভী ও বাছুর এবং একটি বকনা গরু রেখে ঘুমিয়ে পড়ি। রাত ১২টার দিকেও একবার এসে গোয়াল ঘর ঘুরে দেখে গেছি, তখনও গরুগুলো ছিলো। ফজর নামাজের সময় গরুগুলো বের করতে গিয়ে দেখি গোয়ালে একটি গরুও নেই। গাভী বাছুর মিলে দাম হবে প্রায় দেড় লাখ এবং বকনা গরুর দাম হবে প্রায় ৮০ হাজার টাকা। আমার অনেক ক্ষতি হয়ে গেল।

নান্দিনা কামালিয়া গ্রামের ভুক্তভোগী কৃষক সুবেল জানান, আমার একটি গাভী ও বকনা বাছুর চুরি হওয়ায় লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়েছে। 

একই গ্রামের গরু খামারি জুবায়ের হোসেন জানান, কোরবানির ঈদ উপলক্ষে আমার খামারে ১৪টি গরু হৃষ্টপুষ্ট করা হয়েছে। ১১টি গরু বিক্রি করায় এখনও তিনটি গরু আছে৷ আমাদের গ্রামে এক সপ্তাহের ব্যবধানে তিনটি দোকানে ও গোয়াল থেকে গরুর চুরির ঘটনা ঘটেছে। এভাবে চুরি বাড়তে থাকায় গরু নিয়ে খুব আতঙ্কের মধ্যে রয়েছি। 

কামারখন্দ থানার ওসি হাশমত আলী জানান, গরু চুরির ঘটনা শুনেছি। চুরি ঠেকাতে রাতভর বিভিন্ন পয়েন্টে পুলিশি টহল ছিলো। তারপরও গরু চুরি হয়েছে। চুরি ঠেকাতে পুলিশি টহল বাড়ানোসহ আরও নানা পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।