বৃক্ষ রোপনে জাতীয় পুরস্কার প্রাপ্ত গৌরনদীর মাহিলাড়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সম্পাদক সৈকত গুহ পিকলুর বিরুদ্ধে সরকারি গাছ কাটার অভিযোগ উঠেছিল। তদন্তে মাহিলাড়া-ছয়গ্রাম সড়কের গাছ কেটে নেয়ার অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। তবে এ সব অভিযোগ মিথ্যা ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত বলে দাবি করেছেন সৈকত গুহ।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খালেদা নাছরিন আইননানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বরিশালের জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত প্রতিবেদন দাখিল করেছেন। তবে এ ঘটনায় উক্ত চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট উপজেলা এলজিইডি অফিস বা স্থানীয় বনবিভাগের তরফ থেকে এখনও কোন মামলা হয়নি।
অভিযোগে জানা গেছে, মাহিলাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সৈকত গুহ পিকলু জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহে মাহিলাড়া-ছয়গ্রাম সড়কের পাশে রোপিত বিভিন্ন জাতের শতাধিক সরকারি গাছ কেটে নেন। ওই সময় বিভিন্ন জাতীয় ও আঞ্চলিক দৈনিক পত্রিকায় ‘গৌরনদীতে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে গাছ কেটে নেয়ার অভিযোগ’- শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হলে উপজেলা প্রশাসনের টনক নড়ে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খালেদা নাছরিন সরকারি গাছ কেটে নেয়ার বিষয়টি আমলে নিয়ে উপজেলা উপজেলা সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দেন। নির্দেশ পেয়ে এসিল্যান্ড মাহিলাড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সহকারী কর্মকর্তা (তহশীলদার) সরদার মুজিবুর রহমানকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। তদন্ত গাছ কাটা সত্যতা পাওয়া যায়।
সৈকত গুহ বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। এ ব্যাপারে আমি নির্দোষ। আমাকে হয়রানী করার উদ্দেশ্যে মিথ্যা প্রতিবেদন তৈরি করে তা জেলা প্রশাসকের কাছে দাখিল করা হয়েছে। তিনি আরো জানান, ১৯৯৯ সালে বরিশাল সড়ক ও জনপথ বিভাগের সঙ্গে চুক্তিতে সামাজিক বনায়ন করা হয়েছিল। ওই চুক্তি বলে অর্ধেক গাছের মালিক আমি ও জমির মালিকরা। গাছগুলো সড়কের পাশে থাকা জমির মালিকরা কেটে নিয়ে গেছে। একটি প্রভাবশালী মহলের প্ররোচনায় কতিপয় সাংবাদিক মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করে আমার ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা চালাচ্ছেন।
ইত্তেফাক/আরকেজি