৭ মাস পর উৎপাদনে ফিরেছে বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ৩য় ইউনিট

সাত মাস জেনারেল ওভারহোলিং শেষে বিদ্যুৎ উৎপদনে ফিরেছে দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ২৭৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষমতা সম্পন্ন তৃতীয় ইউনিট।

বুধবার (২০ মে) বিকেল ৫টা ৪৬ মিনিটে ৩য় ইউনিটটি চালুর পর ওই ইউনিট থেকে ২০ মেগাওয়াট উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী মো. আবু বক্কর সিদ্দিক। তবে ক্রমান্বয়ে বিদ্যুতের উৎপাদন বাড়বে বলেও তিনি জানান।

প্রধান প্রকৌশলী মো. আবু বক্কর সিদ্দিক আরও জানান, ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে ইউনিটটি বন্ধ ছিল। এ সময় ওভারহোলিংয়ের কাজ শেষ করা হয়। বর্তমানে চালু হওয়া তৃতীয় ইউনিটসহ প্রথম ইউনিট থেকে মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে ৭০ মেগাওয়াট। এরমধ্যে প্রথম ইউনিটে ৫০ মেগাওয়াট এবং তৃতীয় ইউনিটে ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। আগামীকালের মধ্যে প্রথম ও তৃতীয় এই দুই ইউনিট থেকে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হবে তিনি তিনি আশা করছেন।

২ নম্বর ইউনিট এখনও বিকল

৫২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন কয়লাভিত্তিক বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের মোট তিনটি ইউনিট রয়েছে। ১ ও ২ নম্বর ইউনিটের প্রতিটির উৎপাদন ক্ষমতা ১২৫ মেগাওয়াট করে এবং ৩ নম্বর ইউনিটের উৎপাদন ক্ষমতা ২৭৫ মেগাওয়াট।

২০২০ সালের নভেম্বরে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ২ নম্বর ইউনিটটি সাড়ে চার বছরেও মেরামতের অভাবে অচলাবস্থায় পড়ে রয়েছে।

বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ, পিডিবি ও বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি বলে ২ নম্বর ইউনিটটি অকেজো অবস্থায় পড়ে রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে ওই ইউনিটটি মেরামত করে সচল করতে ২০০ কোটি টাকার প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী মো. আবু বক্কর সিদ্দিক।

উল্লেখ্য, প্রতিটি ইউনিট চালাতে দুইটি ইলেকট্রো হাইড্রোলিক অয়েল পাম্প প্রয়োজন। ২০২২ সাল থেকে ৩ নম্বর ইউনিটের দুইটি পাম্পের একটি বিকল। ঝুঁকি নিয়েই একটি পাম্প দিয়ে উৎপাদন চালানো হচ্ছিল, যার কারণে মাঝেমধ্যেই ইউনিটটি বন্ধ হয়ে যেতো।